ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় ইমরান হোসেন ইমন (২৭) নামের এক যুবককে মোট পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন রাজশাহী সাইবার ট্রাইবুনাল আদালত।

সোমবার দুপুরে রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. জিয়াউর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।

ফটো এডিটের মাধ্যমে বিকৃত করে সাবেক প্রেমিকার অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করায় ওই যুবককে এই সাজা দিয়েছেন আদালত।

রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌশুলি অ্যাডভোকেট ইসমত আরা সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন।

রায়ে ইমরান হোসেন ইমনকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং তিন লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া অপর একটি ধারায় দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

ইমরান হোসেন ইমনের বাড়ি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার বিলগোপালহাটি গ্রামে। বাবার নাম আবদুল খালেক। ২০১৯ সালে যখন মামলাটি দায়ের হয়, তখন ইমরান ঢাকার শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতের উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে আদালত থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

আইনজীবী ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার এক তরুণীর সঙ্গে ইমরানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরবর্তীতে ইমরানের আচরণ ভাল না লাগার কারণে ওই তরুণী যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে ফটো এডিটের মাধ্যমে বিকৃত করে ওই তরুণীর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াতে শুরু করেন ইমরান। শুধু তাই নয়, ওই তরুণীর বান্ধবীসহ বিভিন্নজনের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে তিনি বিভিন্ন অশ্লীল ছবি পাঠাতে শুরু করন। পরবর্তীতে ওই তরুণীর মাকে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তিনি। টাকা না দেয়ায় তিনি আরও বেশি ছবি ছড়াতে থাকেন।

এনিয়ে ওই তরুণীর বাবা চাঁদা দাবি ও অশ্লীল ছবি ছড়ানোর অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই ইমরানের বিরুদ্ধেডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বগুড়া সদর থানায় একটি মামলা করেন। আদালত মোট সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেন। আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সোমবার এ রায় ঘোষণা করা হয়।

অ্যাডভোকেট ইসমত জানান, আসামিকে সাজার পাশাপাশি নগদ অর্থও জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা ভুক্তভোগী তরুণীকে দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।