‘ধান ফুরালো, পান ফুরালো/ খাজনার উপায় কী?/ আর ক’টা দিন সবুর কর/ রসুন বুনেছি।’
এই ছড়ার মতো রসুন চাষীরাও অপেক্ষায় ছিলেন ভালো ফলনের। যা বিক্রি করে খরচের দাম তুলবেন। কিন্তু সে আশায় গুড়োবালি। কারণ প্রতি মণ রসুন চাষ করতে যে খরচ হয়েছে, তার অর্ধেক দাম উঠছে! ফলে রসুন চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে কৃষকরা।
রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে রসুনের দাম খুব কম। আট শ’ টাকা মন দরে রসুন বিক্রি হচ্ছে। অথচ প্রতিমন রসুনের উৎপাদন খরচ প্রায় দেড় হাজার টাকা! কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় চলতি মৌসুমে রসুনের ভালো ফলন পেলেও উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছে। অনেক পরিশ্রমের ফসল রসুন বিক্রি করে খরচের টাকাই উঠাতে পারছেন না কৃষক।
সরেজমিনে রসুন চাষীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, গত মৌসুমে পর্যাপ্ত রসুন উৎপাদন হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এবার কৃষকেরা রসুন চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। কৃষকেরা দাবি করেন, বিদেশ দেশ থেকে রসুন আমদানির ফলে আমরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছি। রসুন চাষে করে এবার খরচের টাকা উঠছে না। এ সময় রসুনের দাম বাজারে থাকবে ১৮০০-২০০০ হাজার টাকা মণ। সেখানে বাজারে প্রতি মন রসুন ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লোকসান গুনতে হচ্ছে আমাদের আর সামনে বছরে রসুন আবাদ করবো না।
গোয়ালন্দেদের দেবগ্রামের রসুন চাষী খবির বলেন, এবার দুই বিঘা জমিতে রসুন আবাদ করেছি। রসুন ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে রসুনের দাম খুব কম হওয়ার কারণে আমার লোকসান হবে। দুই বিঘা জমিতে রসুন আবাদ করতে যে টাকা খরচ হয়েছে, তার অর্ধেক টাকা ঘরে তুলতে পারবো কি না বলতে পারছি না।
মুন্সী পাড়ার রসুন চাষী জুলহাস সরদার বলেন, আমাদের সব জমি নদীতে বিলিন হয়েছে। মাত্র বিঘা তিন জমি নদীর পারে ভালো ছিলো। সেই জমিতে এ বছর রসুন চাষ করে ছিলাম। রসুন অনেক ভালো হয়েছিলো। কিন্তু বাজারে ভাল দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছরে জেলায় আট হাজার ১৯ হেক্টর বিঘা জমিতে রসুন চাষ হয়েছে এবং রসুনের ফলন ভালো হয়েছে। এ সময় গত বছর জেলায় সাড়ে দশ হাজার হেক্টর জমিতে রসুন আবাদ হয়েছিল।






