পাইকগাছার কপিলমুনির খাল থেকে করিমন্নেছা বেগম নামে সত্তরোর্ধ এক মহিলার বস্তাবন্দি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত করিমন্নেছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের বারুইডাঙ্গা গ্রামের মৃত জরিপ গাজীর স্ত্রী।
বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা মাইটখালী খালে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্র বলছে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে করিমন্নেছা নিখোঁজ ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, কেউ তাকে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দি করে ওই খালে ফেলে যেতে পারে। তবে কী কারণে কারা তাকে হত্যা করেছে তাৎক্ষণিক তা জানা যায়নি।
পুলিশ বলছে, করিমন্নেছা পাগলি প্রকৃতির ছিল, শীতের মধ্যে বস্তা জড়িয়েই ঘুরে বেড়াতো। ঠিক এমন অবস্থায় খালে পড়ে গিয়ে থাকতে পারে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে কাজীমুছা গ্রামের জনৈক আবু বক্কার শেখ খালে মাছ ধরতে এসে কাজীমুছা-নাবার মাইটখালী খালের জনৈক নুরুজ্জামান আউলিয়ার চিংড়ি ঘের সংলগ্ন এলাকায় বস্তাবন্দি ভাসমান লাশ দেখে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সংবাদ দিলে তারা থানা পুলিশ ও কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়াদ্দারকে জানান।
পরে খবর পেয়ে থানার ওসি জিয়াউর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করেন।
এর আগে উপস্থিত শত শত মানুষের সামনে বস্তাবন্দি অবস্থায় ভাসমান লাশ দেখে বারুইডাঙ্গা গ্রামের মৃত জরিপ গাজীর ছেলে হাশেম আলী গাজী (৫২) লাশটি তার মায়ের বলে শনাক্ত করেন। তবে থানা পুলিশসহ উপস্থিতরা লাশ বস্তামুক্ত করার আগেই তা শনাক্তকরণের বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। যদিও হাশেম লাশের শরীরে পেঁচানো শাড়ির অংশবিশেষ দেখে লাশটি শনাক্ত করেন বলে দাবি করেন।
এ ব্যাপারে পাইকগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, করিমন্নেছা বিকৃতমস্তিষ্ক ছিলেন। শীতের মধ্যে তিনি বস্তা গায়ে দিয়েই ঘুরে বেড়াতেন। ধারণা করা হচ্ছে, শীতের মধ্যে তিনি কোনো রাতে বস্তাসহ খালে পড়ে গিয়ে থাকতে পারেন।
এছাড়া তার ছেলেসহ পরিবারের সকলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তারা কোনো তথ্য দিতে পারেনি বলে দাবি করেন ওসি জিয়াউর রহমান।



