রংপুরের গঙ্গাচড়ার সরকারি আবাসনে বসবাসকারী জুটমিল শ্রমিক আহেলা খাতুন (৩৫) বেড়িয়েছিলেন ব্যাংকে রাখা ডিপিএসের টাকা তুলে এনে বসতভিটার জন্য জমি কিনতে। কিন্তু পাঁচ দিন পর তার ক্ষতবিক্ষত লাশ মিলেছে একটি পরিত্যাক্ত বিল্ডিংয়ে। রোববার বেলা তিনটায় গঙ্গাচড়া উপজেলার বুড়িরহাট আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ক্যাম্পাসের ওই পরিত্যক্ত বিল্ডিং থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

তদন্ত সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ওই ফার্মের নিরাপত্বাকর্মী শহিদুল ইসলাম ওরফে সাইদুলের সাথে অনৈতিক পরকীয়ার সম্পর্ক এবং ব্যাংকে জমানো ডিপিএসের টাকা নিয়েই হত্যাকান্ডের ঘটনা। তবে ধর্ষণ করা হয়েছিল কিনা তা জানার জন্য ওই নারীর ভ্যাজাইনাল সওয়াবের আলামত সংগ্রহও করেছে পুলিশ। একটি সুরক্ষিত গবেষণা কেন্দ্রের ক্যাম্পাসে এ ধরনের ঘটনায় এলাকাবাসীও উদ্বিগ্ন।

প্রাথমিক তদন্তের উদ্ধৃতি দিয়ে রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) আবু তৈয়ব মোহাম্মদ আরিফ হোসেন জানান, গত বুধবার সকালে রংপুরের বুড়িরহাট গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারী মৃত আহাদ আলীর স্ত্রী আহেলা বেগম(৩৫) বসতভিটের জমি ক্রয়ের জন্য ব্যাংকে জমানো ডিপিএসের টাকা তোলার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ওই ডায়েরিতে ফার্মটির শ্রমিক ও নিরাপত্বাকর্মী শহিদুল ইসলাম ওরফে সাইফুলের সাথে আহেলার সম্পর্ক এবং ডিপিএসের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরের কথা উল্লেখ করা হয়। জিডিটি নথিভূক্ত হওয়ার পরপরই পুলিশ শহিদুলের বাড়িতে যায়। সেখানে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। কিন্তু শহিদুল আগেই পালিয়ে যায়। জিডির সূত্র থরে ওই গৃহবধুকে অনুসন্ধানে মাঠে কাজ করছে পুলিশ।