কক্সবাজারের চকরিয়া ডুলাহাজারা মালুমঘাট এলাকায় ভায়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একসাথে পাঁচ ভাইয়ের মৃত্যুর পর আজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন আহত রক্তিম শীল (২৭)। দীর্ঘ ১৪ দিন জীবনের সাথে যুদ্ধ করেছেন তিনি। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) আইসিইউতে মারা যান।

রক্তিম শীলের সাথে থাকা মিন্টু দত্ত এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে ছয় পুত্র সন্তান হারানো বৃদ্ধা মা মৃণালিনী শীল বলেন, ‘আমার তো সব শেষ হয়ে গেলো। আমার রক্তিমও চলে গেল। আমিও হয়তো বাঁচবো না। ঈশ্বর আমাকে এই কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন কেন করলেন?’

এ কথা বলতে বলতেই কাঁন্নায় ভেঙে পড়েন মা।

রক্তিম শীলের স্ত্রী সুমনা শর্মা বলেন, ‘আমিও শেষ হয়ে গেলাম। ভগবান আমার স্বামীকেও নিয়ে গেলেন। আমার আর বেঁচে থেকে লাভ নেই।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বাবা সুরেশ চন্দ্র শীলের শ্রাদ্ধ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দ্রুতগামী পিকআপ এসে সাত ভাই ও এক বোনকে একসঙ্গে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে চার ভাই- অনুপম শীল, নিরূপম শীল, চম্পক শীল ও দীপক শীল মারা যান। চমেক হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে মারা যান আরেক ভাই স্মরণ শীল। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বোন হীরা শীল ও ভাই রক্তিম শীল। তন্মধ্যে হীরা মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতালে এবং রক্তিম শীলকে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ সকালে রক্তিম মারা যান।