দৈনিক নয়া দিগন্তে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটি ফিরে পেল তার আপন ঠিকানা। রোববার রাতে শিশুটির পরিবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে উপযুক্ত প্রমাণসহ মিরসরাই থানায় আসে। এ সময় তার সব কিছু যাচাই-বাছাই করে শিশুটির প্রকৃত অভিভাবক হিসেবে তার বাবার কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে হস্তান্তর করে মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমান।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি দৈনিক নয়া দিগন্তে মিরসরাইয়ে কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটি কার? শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে অভিবাবকের দৃষ্টিগোচর হয়।

মিরসরাই থানার ওসি মজিবুর রহমান জানান, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার বড়তাকিয়া থেকে কুড়িয়ে পাওয়া শিশুর প্রকৃত অভিভাবককে আমরা খোঁজ করছিলাম। নয়া দিগন্ত পত্রিকায় বিষয়টি প্রকাশ করায় তার অভিভাবক আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন। যে শিশুটি পাওয়া গেছে তার বাবার নাম রিটন ভূঁইয়া। তার পৈত্রিক নিবাস নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায়। তারা সীতাকুন্ডের ভাটিয়ারি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে পরিবার নিয়ে ভাড়ায় থাকতেন। তার স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানায়। শিশুটির বাবা উপযুক্ত প্রমাণ নিয়ে আমাদের কাছে হাজির হলে আমরা শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করি।

শিশুটির বাবা রিটন ভূঁইয়া বলেন, আমার স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন। সে গত বৃহস্পতিবার সবার অগোচরে আমার ছেলেকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে চলে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আমর তাকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরে জানতে পারি আমার সস্তান মিরসরাই থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে জাহিদুল ইসলাম নামে একজনের কাছে রয়েছে। পরে আমি থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করার পর তারা আমাকে উপযুক্ত প্রমানসহ আমার এলাকার জনপ্রতিনিধির নিয়ে থানায় আসি। তারা সবকিছু যাচাই করে আমার ছেলেকে বুঝিয়ে দেন।

শিশুটিকে হস্তান্তর করার সময় উপস্থিত ছিলেন শিশুটিকে কুড়িয়ে পাওয়া এবং তত্ত্বাবধানে রাখা মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ জাহিদুল ইসলাম, ভাটিয়ারী ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং থানার এসআই মো. আল-আমিন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে বড়তাকিয়া মসজিদের সামনে ৮-৯ মাসের অজ্ঞাত একটি শিশুকে এক মহিলা রেখে চলে যায়। পরে মসজিদের মুয়াজ্জিন জাহিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে রাখেন।