লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় আমেনা বেগম (৫৮) নামে এক বৃদ্ধাকে কোপানোর পর কম্বলে পেঁচিয়ে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ছেলের বিরুদ্ধে। গত বুধবার রাতে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আশারকোটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল সকালে এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মিলনকে (২২) আটক করেছে পুলিশ। নিহত আমেনা বেগম ওই বাড়ির মৃত আকবর হোসেনের স্ত্রী। মিলন তাদের ছোট ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মিলন দুই বছর ধরে মানসিক রোগে ভুগছে। দু’বার তাকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছে। সম্প্রতি তাকে ঢাকা থেকে চিকিৎসা করিয়ে বাড়িতে আনা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় মায়ের সাথে মিলন নানাবাড়ি থেকে বাসায় ফেরেন। ঘরে তারা দু’জনই থাকেন। রাতের কোনো একসময় মিলন মাকে কুপিয়ে কম্বল পেঁচিয়ে শরীরে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফজরের আজানের সময় ঘর থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখে আশপাশের লোকজন জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা ঘরে ঢুকে দেখতে পান আমেনার শরীর আগুনে পুড়ছে। পা ও শরীরের কিছু হাড় ছাড়া বাকি অংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পুলিশ পুড়ে যাওয়া লাশ উদ্ধার এবং হত্যায় ব্যবহৃত দা উদ্ধার করেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আমিন বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। মিলন আগে সুস্থ ছিল। দুই বছর ধরে মানসিক রোগে আক্রান্ত। অসুস্থতার কারণেই হয়তো বৃদ্ধ মাকে হত্যার পর পুড়িয়ে ফেলেছে। তিনি আরো জানান, মিলনের বাবা প্রবাসী ছিলেন। তিনি কয়েক বছর আগে বিদেশেই মারা যান। তার অন্য দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন প্রবাসী ও আরেকজন ঢাকায় চাকরি করেন।