প্রথম স্বামীকে ছেড়ে বিবাহবিচ্ছেদ ছাড়াই অপর একজনকে বিয়ে করে থানার হেফাজতে গিয়েছিলেন যে তরুণী, সাথে আটক করা হয়েছিল তার দ্বিতীয় স্বামীকেও। অবশেষে নিজের ভুল বুঝতে পেরে প্রথম স্বামীর ঘরেই ফিরলেন সেই তরুণী।
থানা পুলিশ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও মধ্যস্থতায় অবশেষে দ্বিতীয় স্বামীকে ছেড়ে প্রথম স্বামীর ঘরেই ফিরে গেলেন নওগাঁর মান্দা উপজেলা থেকে উদ্ধার হওয়া আলোচিত সেই তরুণী।
রোববার বিকেলে বাবা-মার জিম্মায় মান্দা থানা হেফাজত থেকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
ওই তরুণীর মা জানান, মেয়ে ভুল করে অন্য একটি ছেলের সাথে চলে এসেছিল। তারা বিয়েও করেছে বলে জানিয়েছে। পুলিশের হেফাজতে আসার পর তাকে নানাভাবে বোঝানো হয় যে, প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রথম স্বামীর সাথে পারিবারিক কোনো বিষয়ে ভুলবোঝাবুঝি ও দ্বন্দ্ব-কলহ হতেই পারে। তাই বলে তো সংসার ভাঙ্গা সঠিক নয়। তখন নিজের ভুল বুঝতে পেরে প্রথম স্বামীর ঘরেই ফিরে যেতে সম্মত হন ওই তরুণী।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, ৯৯৯ থেকে ফোনকল পেয়ে রোববার সকালে দ্বিতীয় স্বামীর বাড়ি থেকে ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার দ্বিতীয় স্বামীকেও আটক করা হয়েছিল। কিন্তু ওই তরুণী কিংবা তার পরিবার মামলা করতে রাজি না থাকায় বাবা-মায়ের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
ওসি আরো বলেন, মামলা না হওয়ায় ওই তরুণীর দ্বিতীয় স্বামী দাবিদার আরিফুল ইসলাম রুবেলকেও একইভাবে তার পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়েই রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নিরুদ্দেশ হন ওই তরুণী। নিরুদ্দেশ স্ত্রীকে খুঁজতে গিয়ে জানাজানি হয় তার পরকীয়া সম্পর্ক ও দ্বিতীয় বিয়ের কাহিনী। পরে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে প্রথম স্বামীসহ ওই তরুণীর বাবা-মা মান্দা থানা পুলিশের স্মরণাপন্ন হন। পরে উপজেলার একটি গ্রাম থেকে দ্বিতীয় স্বামীসহ ওই তরুণীকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ।



