ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে আগুনের ঘটনায় ছয় বছরের ছেলে জুবায়ের, তার বাবা মকবুল, বড় ছেলে জয় ও রেখার গর্ভে থাকা সন্তানের পর এবার মারা গেলেন দগ্ধ রেখাও। পাঁচ সদস্যের পরিবারের কেউই আর বেঁচে রইল না। এই ঘটনায় এলাকায় চলছে শোকের মাতম চলছে।

গতকাল সোমবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেখার মৃত্যু হয়। তার চাচা শরীফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলা সদরের শরীয়তনগর এলাকায় আগুনের ঘটনা ঘটে। এসময় নিহত মকবুল হোসেনের ছেলে জুবায়ের (৬) অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। এ ঘটনায় মকবুল হোসেন (৪০) ও তার স্ত্রী রেখা বেগম (৩২) এবং তাদের আরেক ছেলে জয় (১২) ও ভবনের বাসিন্দা জামিয়া রহমানসহ ১০ জন দগ্ধ হন। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে ও ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন মকবুল হোসেন।

এরপর রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মকবুলের বড় ছেলে জয় মৃত্যুবরণ করেন। পরিবারের জীবিত শেষ ব্যক্তি রেখা ছিলেন শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটের লাইফ সাপোর্টে। অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মেনে সোমবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেখাও মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য, উপজেলার চরচারতলা ইউনিয়নের শরীয়তনগর এলাকায় স্থানীয় মোহাম্মদ আলাই মিয়ার পাঁচতলা বাড়ির নিচতলার ভাড়া থাকতেন মকবুল হোসেন ও তার পরিবার। ২২ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ১০টার দিকে মকবুলের বড় ছেলে জয় মশার কয়েল ধরানোর জন্য দিয়াশলাই দিয়ে আগুন জ্বালায়। এসময় কিছু বুঝার আগেই মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে যায়। মকবুল হোসেন তখন রাতের খাবার খেতে বসেছিল। অগ্নিকাণ্ডের ফলে বাসার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে অন্ধকারে দরজা খুজে না পাওয়ায় তারা বের হতে পারেনি। ফলে বাসার ভেতরে তারা আটকে যায় এবং চারজনই অগ্নিদগ্ধ হয়। খবর পেয়ে আশুগঞ্জ, সরাইল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের চারটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর রাতেই মকবুলের ছোট ছেলে জুবায়ের মারা যায়। পরে মকবুল হোসেন ও তার পরিবারের আরো দুই সদস্যকে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।