দিনমজুর আশানুরের স্ত্রী আম্বিয়া বেগম ১১টি পাতি হাঁস পালন করেন। প্রতিদিন সব হাঁসই ডিম দেয়। আর এই ডিম বিক্রি করে হাঁসের খাবার ক্রয় ও অভাবের সংসারের কিছুটা ব্যয়ভার বহন করে থাকেন।
একই গ্রামের ভ্যান চালক নজরুল ইসলামের স্ত্রী হালিমা খাতুন পাঁচটি পাতি হাঁস পালন করেন। সব হাঁসই ডিম দেয়। এই ডিম দিয়ে তার পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মিটিয়েও অভাবের সংসারের কিছুটা ব্যয়ভার বহন করে থাকে।
মঙ্গলবার সকালে চিত্রানদী পাড়ের সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ধানক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করলে হালিমার হাঁসগুলো মারা যায়। ঘটনাটি ঘটে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পার-শ্রীরামপুর ও সিংদাহ গ্রামে। এ ঘটনায় দুই গ্রামের ২৫ কৃষাণির প্রায় দেড় শতাধিক পাতিহাঁস মারা যায়।
পার-শ্রীরামপুর গ্রামের সাবেক মেম্বর আমজাদ হোসেন জানান, নদীর পাড়ে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ধানক্ষেতে বিষপ্রয়োগের কারণেই হাঁসগুলো মারা যায়। এতে ২৫ কৃষাণির প্রায় দেড় শতাধিক পাতি হাঁস মারা যায়। এবং আরো অনেক হাঁস নিখোঁজ রয়েছে। ঘটনার পর দুই গ্রামের কৃষাণিরা মরা হাঁস নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাছে উপস্থিত হয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। ফলে ওই দিন বিকেলে ইউএনও মহোদয় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া জেরিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ইউএনও বরাবর আবেদন করলে আমরা যথাযথ সহযোগিতা করব। এছাড়া নদীতে তিনটি অবৈধ বাঁধ অপসারণ করেন বলে জানান তিনি।