ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে নানার বাড়ি বেড়াতে আসা দুই শিশু ভাগিনীকে গলা কেটে হত্যা করেছে তাদেরই সহোদর এক মামা। সোমবার দুপুর ১২টায় এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় তৌহিদ (১২) নামে আহত এক শিশুকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত মামা মাহবুব মিয়াকে (২১) আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকাবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো: আবদুল কাদির মিয়া জানান, ১০/১২ দিন আগে ঈশ্বরগঞ্জের উচাখিলা ইউনিয়নের কাজীর বলসা গ্রামে আবদুস সালামের দুই মেয়ে তাদের সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে আসে। অভিযুক্ত মাহবুব গতকাল সোমবার দুপুরে তার বোন হালিমার মেয়ে তৃপ্তি এবং সালমা বেগমের মেয়ে সায়মাকে ঘরে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। এ সময় বাড়ির লোকজন পাশের ঘরে খাওয়া-দাওয়া করছিল। নিহত ছয় বছরের শিশু সায়মা আক্তার নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার বড়ইতাতি গ্রামের জাকিরুল হাসান রাজিবের মেয়ে। আর চার বছর বয়সী তৃপ্তি নান্দাইল উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম শিবলুর মেয়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। অভিযুক্ত মাহবুবকে আটক করা হয়েছে। লোমহর্ষক হত্যায় ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
অভিযুক্ত মাহাবুবের ছোট ভাই সাদেকুর রহমান জানান, সাত ভাই-বোনের মধ্যে মাহাবুব চতুর্থ। সে দাখিল পাস করার পর নান্দাইল উপজেলার একটি কওমি মাদরাসায় ভর্তি হয়েছিল।
সেখানে পাগলের মতো আচরণ করায় মাদরাসা থেকে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। পরে ডাক্তারি ও কবিরাজি চিকিৎসা করানো হলেও পাগলামি সারেনি। অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতেই অবস্থান করছিল মাহবুব। প্রায়ই সে বাড়ি থেকে এদিক-সেদিক চলে যেত। গত রোববার বাড়ি থেকে বের হয়ে রাতে আর ফিরে আসেনি। গতকাল সোমবার দুপুর পৌনে ১২টায় বাড়ি ফিরে আসে। এ সময় তাদের ভাগিনীরা উঠানে খেলা করছিল। মাহাবুব তাদের ডেকে ঘরের ভেতর নিয়ে দা দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। ঘরের ভেতর শিশুদের গোঁঙানোর শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে মাহবুব পালাতে চেষ্টা করে। বাড়ির লোকজন দুই শিশুর লাশ দেখে মাহাবুবকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।