রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার যমুনেশ্বরী, ঘাঘট, আঁখিরা নদী শুকিয়ে যাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন মৎস্যজীবী পরিবারগুলো। প্রায় দেড় মাস আগে শুষ্ক মৌসুম শুরু আগেই নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় সহস্রাধিক জেলে পরিবার বেকার হয়ে পড়েছে। খেয়ে না খেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের অনেকেই পরিবারের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দিতে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যোগ দিয়েছেন।
মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর বড় বালা মিলনপুর, পায়রাবন্দ, ভাংনী, মির্জাপুর, ইমাদপুর, ইউনিয়নের বুক চিরে যমুনেশ্বরী, ঘাঘট, আখিরা নদী প্রবাহিত। বর্তমানে পানিশূন্য হয়ে পড়ায় নদীর তীরবর্তী মাঝিপাড়া কেশবপুর ছড়ান, উঁচা বালুয়া, জানকীপুর, সাহালামপুর, বড় বালা একডালা উঁচা বালুয়া, হাঁছিয়া, হেলেঞা, কেশবপুর সহ বিভিন্ন গ্রামের বেশিরভাগ জেলে পরিবারে অভাব। অনেক পরিবারের চুলোয় হাঁড়ি চড়ছে না।
যারা রিক্সা-ভ্যান চালানো বা অন্য কোনো পেশায় যোগ দিয়েছেন, তারা কোনো মতেই দিনশেষে পরিবারের জন্য দুই তিন কেজি চাল নিয়ে ঘরে ফিরতে পারছেন। অন্যদের পরিবারে শুধু হাহাকার।
জানা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে যমুনেশ্বরী, ঘাঘট, আখিরা নদী শুকিয়ে যাওয়ায় ছেলেদের অনেকে সাল নৌকা ছেড়ে রাজমিস্ত্রি লেবার, কেউ মুটের কাজ, কেউ মাছের আড়তের শ্রমিক, কেউ মুরগির দোকানের মজুর, কেউ বা চুল কাটা সেলুনে নরসুন্দর হয়েছে।
উপজেলার হাঁছিয়া গ্রামের সুধীর চন্দ্র নদীতে মাছ ধরে সংসার চালাতেন। নদীতে পানি না থাকায় তিনি এখন রাজমিস্ত্রির কাজে যোগ দিয়েছেন। নরেন হাওলাদার কয়েক বছর আগেও নদীতে মাছ ধরতেন। কিন্তু নদী শুকিয়ে যাওয়ায় তিনি বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে তিনি এখন সেলুনে কাজ করেন। মাছ তিনি এখন কিনে খান। তার মতই পেশা বদল করেছেন অনেকে। সুরেশ কমল, কান্ত, ধীরেন অধীর সহ কমপক্ষে এক শ’ পরিবার।
উপজেলা মৎস্য দফতর সূত্র জানায়, উপজেলায় জেলে পরিবারের সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে কার্ডধারী তালিকাভুক্ত দুই হাজার ৯৫৩ জন। মিঠাপুকুর উপজেলা কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি সুধীর চন্দ্র জীবন জানান কার্ড নেই অনেকেরেই। এর কোনো সঠিক পরিসংখ্যান ও নেই মিঠাপুকুর উপজেলা মৎস্য অধিদফতরে।
উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, জেলেদের সমস্যার বিষয়টি তারা জেনেছেন। মিঠাপুকুর উপজেলা নদীতে পানি না থাকায় অনেক জেলে পরিবার কষ্টে আছেন। সরকারি কোনো অনুদান বা সহায়তা এলে অবশ্যই তাদের দেয়া হবে। নদীর পানি প্রবাহ ধরে রাখতে নদী খননের জন্য অফিশিয়ালি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।






