মাগুরার শ্রীপুরে মাদরাসার কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের কুড়ালের কোপে রাজু শেখ (২২) নামের এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। সোমবার রাতে উপজেলার তখলপুরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাজু ওই গ্রামের আক্তার শেখের ছেলে ও ফরিদপুর রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র। তিনি প্রাণ কোম্পানিরও এসআর। এ সময় তার পিতা আক্তার শেখ (৫৫) ও কাবিল (৪৩) নামে অপর একজনকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
নিহত রাজু শেখের পিতা আক্তার শেখ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় বর্তমান ইউপি মেম্বার মকবুল হোসেন ও রাজু বাড়ির পাশের চায়ের দোকানে বসে ছিল। এ সময় প্রতিপক্ষ সাবেক মেম্বার আব্দুর রউফের সমর্থক ফারুখ, সুমন, আশরাফুল, দাউদ, বাঁশি বিশ্বাস, হেলাল নাজমুলসহ কয়েকজন রাজুর মাথায় কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা সম্ভব না হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়। পথিমধ্যে অবস্থার অবনতি হলে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, তখলপুর ওয়ার্ডের সাবেক ও বর্তমান ইউপি সদস্যের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত শনিবার দুপুরে তখলপুর হাতেম আলী মিয়া দাখিল মাদরাসার কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অভিভাবকদের মিটিংয়ে রউফের সমর্থক ও মকবুলের সমর্থকদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ওইদিন রাতে মকবুল মেম্বারের লোকজন রউফকে তখলপুর ফুলতলা বাজারে পিটিয়ে আহত করলে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর জের ধরে রউফের লোকজন ওই রাতেই মকবুলের পক্ষের ২০-২৫টি বাড়ি-ঘর ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এরপর থেকে মকবুলের সমর্থকদের মারধর চলছিলো।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকদেব রায় জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। রাতেই ফারুক শেখ ও তরিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।



