বরিশালের মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নে নিজ অর্থায়নে গড়ে উঠেছে ‘অন্বেষণ গণপাঠাগার ও সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্র’। যুব সমাজ যখন বিভিন্ন নেশায় জড়িয়ে ভুল পথে হারিয়ে যায়। সে পথ থেকে তাদের বিরত রাখার জন্য, নতুন আশার আলোর দিকে আনার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (অবসর) মোঃ ইমদাদুল হক (মজনু) ২০১৩ সালে নিজের ২০ শতাংশ জমিতে ব্যক্তিগত অর্থায়নে গড়ে তুলেন এই পাঠাগার।
আজ অন্বেষণ গণপাঠাগারটি বড়দের পাশাপাশি খুদে পাঠকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে। গল্প, কবিতা, কমিকসসহ বিভিন্ন ধরনের বইয়ের সন্ধানে তারা পাঠাগারে ভিড় করছে। পাঠাগারের উদ্যোক্তারা শিশুদের জন্য প্রায় দুই হাজার বই সংগ্রহে রেখেছেন। শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়তে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাঠাগারে বড়দের পাশাপাশি খুদে পাঠক গ্যালারিও রয়েছে।
কথা হয় পাঠাগারের লাইব্রেরিয়ান সজলের সাথে। তিনি বলেন, সপ্তাহে ছয় দিন পাঠাগারটি খোলা থাকে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত। সবার জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু বর্তমানে খুদে পাঠকের সংখ্যা বাড়ছে। পাঠকদের মন কেড়ে নেয়ার জন্য প্রায় শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছ রয়েছে পাঠাগারটি ঘিরে।
নাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরনাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ নাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাজিরপুর প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নাজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অন্বেষণ গণপাঠাগারে বই পড়তে আসে বলে জানান পাঠাগার কর্তৃপক্ষ।
চরনাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মীম বলে, ঈশপের গল্প, কার্টুন, কমিকস পড়তে ভালো লাগে। কিন্তু বাড়িতে গল্প, কার্টুনের বই নেই। অন্বেষণ গণপাঠাগারে এসব বই থাকায় নিয়মিত পড়ার জন্য আসি।
নাজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা রাশেদ মোল্লা জানান, ছেলে-মেয়েরা নিয়মিত বই পড়ছে এটা আনন্দের সংবাদ। বইয়ের আগ্রহ শিশুদের খারাপ সঙ্গ থেকে দূরে রাখবে এবং ভবিষ্যতে তারা একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।






