চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাছেরদাড়ি গ্রামে মসজিদের ইমামের বেতনের টাকা তোলা নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ ১২ জন আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগের নেয়া হলে সেখানেও উভয়পক্ষের সংঘর্ষ বাঁধে।

পরে হাসপাতালে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ এ ঘটনায় সাতজনকে আটক করেছে।

সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত প্রায় সাড়ে আটটা পর্যন্ত মাছেরদাড়ি জামে মসজিদে এ মারামারির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন।

আহতরা হলেন - এক পক্ষের চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর গ্রামের মাছেরদাড়ি গ্রামের মৃত আবেদ আলীর ছেলে ইব্রাহিম (৫২), একই গ্রামের জাহাঙ্গীরের ছেলে তোতা মিয়া (৩৪), মিজানুর রহমানের ছেলে শাওন (২২), ছলেমান মিজির ছেলে ইছানুল হক (৫০), মিজানুর রহমানের ছেলে রাজু (৩০), মৃত আলী আজগরের ছেলে মাহাবুল (৪০), হোসেন আলীর ছেলে আনিক (১৭), মৃত আব্দুল বাতেনের ছেলে (ক্যাশিয়ার) আশকার আলী (৪০), তার স্ত্রী রিজিয়া পারভিন (৪৬), মৃত নুরু ব্যাপারির ছেলে তাইজেল আলী (৩৫) ও আলী কদরের ছেলে বাবুল আলী (৪০)। অপর পক্ষের একই গ্রামের মৃত শের আলী দেওয়ানের ছেলে সালাউদ্দিন (৪০)।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুল হক বলেন, মসজিদের ইমামের বেতনের টাকা তোলা নিয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি শহিদুল্লাহ ও ক্যাশিয়ার আশকার আলীর সাথে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে সোমবার বিকেলে উভয়পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে সাধারণ মুসুল্লিসহ একজন নারী গুরুতর আহত হন।

এদিকে সংঘর্ষের পর আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে উভয়পক্ষের লোকজন আবারো সংঘর্ষে জড়ায়। পরে সদর থানা ও হাসপাতালে নিয়োজিত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ সময় জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, চিকিৎসক ও স্টাফদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া সদর হাসপাতাল চত্বর থেকে দু’জনকে আটক করে নেয়ার সময় পুলিশের গাড়ি থেকে অভিযুক্তদের ছিনিয়ে নেয়ারও চেষ্টা করে স্বজনরা।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন বলেন, আহতদের অবস্থা শঙ্কামুক্ত। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সবাইকে ভর্তির জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, মসজিদের টাকা তোলাকে কেন্দ্র করে সভাপতি ও ক্যাশিয়ার গ্রুপের ১১ জন আহতদের খবর জেনেছি। এ ঘটনায় সাতজনকে আটক করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।