গ্রাহকের নামে জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ দেখিয়ে ৪৭ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় উত্তরা ব্যাংক ঝালকাঠি শাখার সাবেক ব্যবস্থাপকসহ (চাকরিচ্যুত) তিন কর্মকর্তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার দুপুরে ঝালকাঠির জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শহিদুল্লাহ এ আদেশ প্রদান করেন। উত্তরা ব্যাংকের সাবেক এ কর্মকর্তারা হলেন, ব্যবস্থাপক এম এ কুদ্দুস, ঋণ আদায়কারী শাহাবুদ্দিন আহাম্মদ ও সুপারভাইজার আমির হোসেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ঝালকাঠি শহরের কৃষ্ণকাঠি এলাকার আবদুল জলিল খানের বাসস্ট্যান্ডে আলেয়া ইলেকট্রনিকস সেন্টার নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ২০১২ সালে উত্তরা ব্যাংক ঝালকাঠি শাখার অভিযুক্ত ওই তিন কর্মকর্তা আলেয়া ইলেকট্রনিকস সেন্টারের নামে ৫০ লাখ টাকা সিসি (ক্যাশ ক্যাডিট) ঋণ নিয়ে জমি কিনে ব্যবসা করার প্রলোভন দেখান আবদুল জলিল খানকে। ১০ ডিসেম্বর তিনি ব্যাংকের শাখায় গিয়ে সিসি ঋণের দুই লাখ টাকা উত্তোলন করতে যান। তখন তিনি জানতে পারেন, ওই তিন ব্যাংক কর্মকর্তা তার অজান্তেই ৫ ডিসেম্বর ২৫ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন। একাধিকবার অঙ্গীকার করেও তিনি টাকা পরিশোধ করেননি। এ ঘটনায় একাধিকবার সাবেক এ ব্যাংক কর্মকর্তার সাথে বৈঠক করা হলেও তিনি টাকা দিতে পারেননি। অবশেষে ২০২১ সালের ২৭ মে ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন ব্যবসায়ী আবদুল জলিল খান। আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এদিকে মামলার বাদি উত্তরা ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ দেন। তদন্ত শেষে অর্থ আত্মসাতের ঘটনার প্রমাণ পেয়ে কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত তিনজনকে চাকরিচ্যুত করেন। আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে চার সপ্তাহের জামিন নেন। রোববার তারা ঝালকাঠির জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন বাদির আইনজীবী নাসির উদ্দিন কবীর।
ব্যবসায়ী আবদুল জলিল বলেন, উত্তরা ব্যাংকের সাবেক এই তিন কর্মকর্তা শুধু আমাকেই হয়রানি করেননি, আরো ২৬ জনের নামেও কৃষিঋণের নামে টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন। আমরা ২৭ জন তাদের প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি।