কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার খুদিরজঙ্গল গ্রামের ব্যবসায়ী মফিজ উদ্দিনকে হত্যার দায়ে একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও মামলার অপর আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সেই সাথে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আদালত। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকেও একই অংক জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ মার্চ) দুপুরে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক নার্গিস ইসলাম এ রায় দেন।
রায়ের সময় আসামি দুজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
কিশোরগঞ্জ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (এপিপি) আব্দুল খালেক দাদন বিষয়টি নয়া দিগন্তকে নিশ্চিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম আবু বক্কার। তিনি খুদিরজঙ্গল গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে।
এদিকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন হারেছ উদ্দিন। তিনি একই গ্রামের মৃত হাছুর ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ব্যাবসায়িক বিরোধের জেরে ২০১০ সালের ২০ মে রাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিহত মফিজ উদ্দিনকে আসামি হারেছ উদ্দিন করিমগঞ্জ বাজার থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরদিন ২১ মে সকালে খুদিরজঙ্গল গ্রামের আবুল হাশেমের বাড়ির পূর্ব দিকে রাস্তার কালভার্টের নিচে তার লাশ পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের খবরে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে থানায় খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো: আলী আকবর ২০১০ সালের ২২ মে দুই আসামির নাম উল্লেখ করে করিমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা (নং ১৬) দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর ২০১১ সালের ১ নভেম্বর প্রধান আসামি আবু বক্কারকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আবুবক্কার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে ২০১২ সালের ৬ মে মামলার অপর আসামি হারেছ উদ্দিনকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার এসআই শেখ আব্দুল্লাহ ২০১২ সালের ১২ অক্টোবর উপরোক্ত দুই আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার আদালতের বিচারক আসামিদের উপস্থিতিতে উপরোক্ত রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক দাদন এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট আলী আসগর আকন্দ ও মো: মহিউদ্দিন আহমেদ মামলাটি পরিচালনা করেন।



