নওগাঁর রাণীনগরে গত এক মাস ধরে ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় কাজ করে মজুরি পাননি অতিদরিদ্র শ্রমিকরা। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘোর বিপদে পড়েছেন তারা। তারা জানিয়েছেন, চাল কিনতে না পারায় অনেকেই দুপুরের খাবার পর্যন্ত নিয়ে আসতে পারছেন না। পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে কোনো রকমে দিন কাটছে এই শ্রমিকদের।
রাণীনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অতিদরিদ্রদের জন্য ২০২১-২০২২ অর্থবছরে সরকারের বাস্তবায়নাধীন কর্মসৃজন প্রকল্পের প্রথম ধাপে কাজ করার জন্য রাণীনগর উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ৪০টি প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়া হয়। এসব কাজ শেষ করতে প্রকল্পের আওতায় ৯৭৩ জন অতিদরিদ্র শ্রমিক নিয়োগ করা হয়। প্রতিজন শ্রমিকের মজুরী নির্ধারণ করা হয় ৪০০ টাকা। সে অনুযায়ী গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে কাজ শুরু করা হয়।
শ্রমিকরা জানান, শুরু থেকে এ পর্যন্ত (২৩ মার্চ বুধবার পর্যন্ত) এক মাস ধরে কাজ করেছেন কিন্তু এখন পর্যন্ত এক টাকাও মজুরি পাননি তারা।
কালীগ্রাম ইউনিয়নে কর্মরত শ্রমিক ঝরণা বিবি জানান, একমাস ধরে কাজ করে কোনো মজুরি পাইনি। প্রতিবেশীর কাছ থেকে দুই কেজি চাল ধার নিয়ে সন্তানদের মুখে খাবার দিয়েছি। কিন্তু নিজের খাবার না থাকায় কাজ করতে এসে দলের শ্রমিকরা তাদের খাবার থেকে আমাকে দিয়েছে।
শ্রমিক জাহের আলী জানান, সংসারের চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন এনজিও থেকে কিস্তির উপর ঋণ নিয়েছি। প্রতি সপ্তাহে কিস্তি দিতে হয়। কিন্তু কাজের মজুরি না পেয়ে এনজিও’র কিস্তি ও সংসার পরিচালনা করতে পারছি না। অনেকেই খাবার ভাগ করে খাচ্ছেন।
কালীগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রমিক দলের সরদার আবুল কালাম আজাদ জানান, তার দলে ৩৮ জন অতিদরিদ্র শ্রমিক রয়েছেন। এক মাস ধরে কাজ করে এখন পর্যন্ত একজন শ্রমিকও কোনো মজুরি পায়নি। ফলে অনেকেই চাল কিনতে না পেরে দুপুরের খাবার পর্যন্ত নিয়ে আসতে পারছে না। তিনি আরো বলেন, একদিকে নিত্যপণ্যের বাজারদরে হাহাকার, অন্যদিকে কাজ করে মজুরি না পাওয়ায় ঘোর বিপদে পড়েছে শ্রমিকরা।
খট্টেশ্বর রাণীনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লেবার সরদার শফিকুল ইসলাম ধলু বলেন, তার দলে ২৫ জন শ্রমিক রয়েছেন। মঙ্গলবার কয়েকজন শ্রমিক টাকা পেলেও তিনিসহ অনেক শ্রমিকই টাকা পাননি।
একডালা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লেবার সরদার রইচ উদ্দীন বলেন, তার দলে ৩১ জন শ্রমিক রয়েছেন। তারাও একটি টাকাও এখনো পাননি।
এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলার প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা মেহেদি হাসান বলেন, কিছু সমস্যার কারণে টাকা পেতে দেরি হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু কিছু শ্রমিকরা টাকা পেতে শুরু করেছেন। দু’-এক দিনের মধ্যে সব শ্রমিক টাকাই পেয়ে যাবেন।



