নোয়াখালীর কবিরহাটের ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের জগদানন্দ গ্রামে বিজয় মেলায় নামে নগ্ন নৃত্যের আসর চালানোর অভিযোগ উঠেছে সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান মুনাফ, পারভেজ ভূঞা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন বাবুলের বিরুদ্ধে।
ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল কোম্পানি এ মেলার উদ্বোধন করে আসার পর থেকেই তার নাম ভাঙিয়ে এবং স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজশে বেসামাল এসব নগ্ন নৃত্য চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের।
প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানান, মুকবুল চৌধুরী হাট বিজয় মেলা প্রাঙ্গণে রয়েছে ১৫-২০টি দোকান। মেলার মূল আর্কষণ হল নগ্ন নৃত্যের আসর। রাত ১১টা থেকে উঠতি বয়সী স্কুল-কলেজরে শিক্ষার্থী আর গ্রাম্য যুবকদের নগ্ন নৃত্যের আসরে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। তবে নগ্ননৃত্য মঞ্চে মোবাইলে ছবি ও ভিডিও চিত্র ধারণ কঠিনভাবে নিষিদ্ধ করেছে আয়োজকরা। ফলে এ অশ্লীল নৃত্যের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২২ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত মুকবুল চৌধুরী হাট বিজয় মেলার অনুমোদন নেয় মেলা আয়োজক কমিটি। মেলায় তারা যাত্রাপালার অনুমোদন নিলেও অবলীলায় রাতের আঁধারে এখানে চলছে উলঙ্গ নৃত্য আর ভ্রাম্যমাণ মাদক কারবারিরা সুযোগ বুঝে করছে ইয়াবার বেচাকেনা।
এ মেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে দৈনিক প্রচারাভিযান অব্যাহত রাখলেও মূলত যাত্রাপালা অনুষ্ঠানের নামে সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু করা হয় ‘ভ্যারাইটিজ শো’ নামের রঙিন নৃত্য। এর ফলে এলাকার শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বিঘ্নিত হওয়াসহ উঠতি বয়সী যুবসমাজ রসাতলে যাওয়ার আশঙ্কায় এলাকার সুশীল সমাজ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও মেলা আয়োজন কমিটির সদস্য পারভেজ ভূঞা বলেন, প্রত্যেক বছর এখানে মেলা মিলে। এবারও ৫ দিনের জন্য মেলার অনুমোদন নেয়া হয়েছে। যেহেতু মেলা শেষ প্রান্তে তাই দ্রুত মেলা ক্লোজ করে দেয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন বাবুলের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি আবদুল মান্নান মুনাফ বলেন, খারাপ নাচ-গান হওয়ার সময় আমি ওখানে ছিলাম না। এমন হওয়ার কথা নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল কোম্পানি বলেন, আমি মেলা পরিচালনার সাথে জড়িত নেই। আমি প্রথম থেকে মেলা আয়োজনের বিপক্ষে ছিলাম। অভিযোগের বিষয়ে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কবিরহাট থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নাল আবেদীন বলেন, কেউ এ ধরনের কিছুর খবর পাইনি। খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



