দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ২০ বছর বয়সী এক তরুণী গৃহবধূকে একাধিকবার ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আপন শ্বশুরের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ পাশের নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া ইউনিয়নের শাল্টিমুরাদপুর গ্রামের মসফিকুর রহমানের মেয়ে।

সোমবার দুপুরের দিকে উপজেলার পালশা গ্রামে এ নিয়ে অভিযোগ ওঠার পরপরই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান লম্পট শ্বশুর লুৎফর রহমান (৪৭)।

এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এজাহার দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন গৃহবধূর বাবা মসফিকুর রহমান।

ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ বলেন, গত ২০১৯ সালে ঘোড়াঘাট উপজেলার পালশা গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে আজিজুল ইসলামের সাথে আমার বিয়ে হয়। সোমবার সকালে আমার স্বামী কাজে বাহিরে যায় এবং আমার শাশুড়ি টিকা নেয়ার জন্য গিয়েছিল। বাড়িতে কেউ না থাকায় আমার শ্বশুর বাড়ির দুটি দরজা বন্ধ করে আমার হাত ধরে ঘরের ভেতরে নিয়ে যায় এবং অনৈতিক কাজ করার চেষ্টা করে। আমি তাকে অনেকভাবে মিনতি করি আমাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য। কিন্তু সে আমাকে ছেড়ে না দেয়ায় আমি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে এবং আমার শ্বশুর পালিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, এর আগেও আমার শশুর দুইবার আমার সাথে এরূপ আচরণ করেছে। আমি আমার স্বামী ও শাশুড়িকে বিষয়টি একাধিকবার বলেছি। কিন্তু তারা বিশ্বাস করেনি।

তিনি চিৎকার করলে পাশের কাজলী বেগম নামের এক নারী সেখানে এগিয়ে আসেন। তিনি সম্পর্কে ওই গৃহবধূর প্রতিবেশী ভাসুরের স্ত্রী। কাজলী বেগম বলেন, আমি চিৎকার শুনে দরজায় এসে দেখি, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। তখন জানালার কাছে গিয়ে দেখি তার শশুর তার হাত ধরে টানাটানি করছে এবং সে তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে আকুতি জানাচ্ছে।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান কবির বলেন, কিছুক্ষণ আগে মোবাইল ফোনে শুনলাম ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ তার পরিবারের সাথে থানায় আসছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ থানায় আসেনি। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।