নাদীতে নাব্য ও ফেরি সংকটে এবং মাওয়া ঘাটের বাড়তি গাড়ির অতিরিক্ত চাপে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। ফলে ফেরি ঘাট থেকে মহাসড়কের ৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সহস্রাধিক পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও বাসের যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৭টি ফেরি দিয়ে নিয়মিত যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। রো রো ৮টি, ইউটিলিটি ৬টি, টানা (ডাম্প) ২টি ও কেটাইপ ১টি ফেরি চলাচল করছে। এর মধ্যে ডাম্প ও কেটাইপ ফেরি ২টি অতি পুরাতন হওয়ায় রাতে সব সময় এবং দিনের বেলাও প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ থাকছে। আর নদীর পানি কমে পন্টুন নিচু হওয়ায় বড় বড় রো রো ফেরি সব ঘাটে ভিড়তে পারে না। এ ছাড়া দৌলতদিয়ার সাতটি ঘাটের মধ্যে চারটি চালু থাকলেও ৫ ও ৭ নম্বর ঘাটের সামনে বেসিনে পানি কম থাকায় পন্টুনের র্যাম্পের সাথে সংযোগ সড়কের উচ্চতা বেশি হওয়ায় গাড়ি ওঠা-নামার অতিরিক্ত সময় লাগছে। যেখানে স্বাভাবিক অবস্থায় ২০-৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। ফলে ফেরি ও ঘাট সংকট দৌলতদিয়ায় বিরাজ করছে গত দুই মাস ধরেই।
এছাড়া মাওয়া ঘাটে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করায় ওই রুটের সব ট্রাক ও অধিকাংশ বাস দৌলতদিয়ায় আসছে পারের জন্য। ফলে ঘাটে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ রয়েছে।
শুক্রবার সরেজমিনে সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ঘাটে দেখা যায়, ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ বাজার বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের এক লেনে প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান এবং অপর লেনের সাইনবোর্ড পর্যন্ত শতাধিক যাত্রীবাহী বাসসহ সহস্রাধিক যানবাহন ফেরি পারের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে যাত্রীবাহী পরিবহন ও পচনশীল দ্রব্যের যানবাহনগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে।
যশোরের বেনাপোল থেকে কাভার্ডভ্যান নিয়ে গত বুধবার বিকেলে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হন চালক সোয়েব আলি। সন্ধ্যার পর তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ে এসে সিরিয়ালে আটকা পড়েন। দুই রাত অপেক্ষার পর শুক্রবার ভোরে দৌলতদিয়া ঘাটের দিকে আসার সুযোগ পান।
দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরির অপেক্ষায় কাভার্ডভ্যান নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সোয়েব আলি বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আমাদের মনে হয় না কোনোদিন ভোগান্তি শেষ হবে। যতদিন দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে ট্রাক নিয়ে পার হইছি, ততদিনই নানা বিড়ম্বনায় পড়ছি। সিরিয়ালে আটকে না পারি খাইতে, না পারি ঘুমাইতে। কিছুক্ষণ পরপর সামান্য একটু করে গাড়ি আগাইতাছে। জানি না কখন পার হমু আর কখন ভোগান্তি শেষ হবে।’
সোয়েব আলির মতো দৌলতদিয়া প্রান্তে নদী পার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ৮-৯ শ’ পণ্যবাহী ট্রাক। ফেরির নাগাল পেতে যানবাহনগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অপচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যানগুলো পার হতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগছে। সিরিয়ালে শতাধিক যাত্রীবাহী যানবাহন থাকলেও পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যাই বেশি। ঘাট স্বল্পতার পাশাপাশি অতিরিক্ত গাড়ির চাপে দৌলতদিয়ায় যানজট তৈরি হচ্ছে।
হানিফ পরিবহন নামের একটি বাসের যাত্রী ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘দুই ঘণ্টা ঘাটে সিরিয়ালে আটকে আছি। সাথে পরিবারের লোক থাকায় বাস থেকে নেমেও যেতে পাড়ছি না। তীব্র গরমে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) প্রফুল্ল চৌহান বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। যাত্রীবাহী যানবাহন ও পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার চলমান রয়েছে। বর্তমানে এ নৌপথে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭টি ফেরি চলাচল করছে। পণ্যবাহী ট্রাকের বাড়তি চাপ থাকায় ঘাটে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।



