পার্বত্য অঞ্চলে শুরু হয়েছে বৈসাবী উৎসবের আমেজ। তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু তথা বৈসাবী উৎসবকে ঘিরে নানান রঙে সাজতে শুরু করেছে পুরো পার্বত্য এলাকা।
বৈসাবী উৎসবের বর্ণিল আয়োজনে আজ থেকে রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনিস্টিটিউট প্রাঙ্গনে শুরু হচ্ছে চার দিনের সংস্কৃতি মেলা। মেলার স্টলে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র ও হস্ত সামগ্রীসহ নানান পসরা প্রদর্শিত হবে। এ ছাড়া থাকবে সেমিনারসহ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এর আগে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও মেলার মধ্যে দিয়ে বিজু সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু তথা বৈসাবী উৎসবের সূচনা হবে। রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করতে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানান রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য ও ক্ষুদ নৃগোষ্ঠীর আহ্বায়ক রেমলিয়না পাংখোয়া। পাহাড়ে প্রধান ও সামাজিক উৎসব হিসেবে বৈসাবী উৎসব পালন করা হচ্ছে এবার সাড়ম্বরে। করোনা মহামারীর কারণে গত তিন বছরে বৈসাবী উৎসবের আয়োজন ছিল সীমিত পরিসরে। বিজু, সাংগ্রাইং, বৈসুক, বিষু, বিহু ও বাংলা নববর্ষ-২০২২ উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে নানান অনুষ্ঠানমালা ।
বৈসাবীর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এই দিনটিকে ঘিরে আনন্দ উৎসবে মেতে থাকে পাহাড়ের সব সম্প্রদায়ের মানুষ। এ বছর বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসার কারণে রাঙ্গামাটির সর্বত্র বৈসাবী উৎসব পালিত হবে আনন্দঘন পরিবেশে।
১২ এপ্রিল পাহাড়ের বৈসাবী উৎসবের প্রথম দিন চাকমা, ত্রিপুরা, তংচঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের ফুল বিজু বৈসু কিংবা বিষু। অনুরূপভাবে ১৩ এপ্রিল চৈত্র সংক্রান্তির দিনকে বলা হয় মূল বিজ বৈসু বা বিষুু। আর ১৪ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলে মারমাদের জলকেলি উৎসব।
উৎসবের প্রথম দিনে চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমারা বন থেকে ফুল আর নিমপাতা সংগ্রহ করে সেই ফুল দিয়ে ঘর সাজায় ও মা গঙ্গার উদ্দেশে নদীতে ফুল ভাসায়। মূল বিজুর দিনে ঘরে ঘরে রান্না হয় ঐতিহ্যবাহী পাচন। আর বাংলা নববর্ষের দিনে রাঙ্গামাটির কাউখালীর বেতবুনিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে মারমাদের জলকেলি উৎসব। উল্লেখ্য, প্রতি বছর বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে রাঙ্গামাটিতে বসবাসরত ১৩ নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর উদ্যোগে বিজু, সাংগ্রাই, সাংক্রান, সাংক্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, জল উৎসব ও বাংলা নববর্ষ উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে পালন করা হয়। এ উৎসব সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে ৪ এপিল থেকে সংস্কৃতি মেলা ও র্যালিসহ বিভিন্ন ধরনের পাহাড়ি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ১৬ এপ্রিল মারমাদের জলকেলি উৎসবের মধ্য দিয়ে বৈসাবী উৎসব শেষ হবে।