শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বারমারী সীমান্তের আন্ধারুপাড়া ও ডালুকোনা এলাকার পাহাড়ি ঢালে সোমবার রাতব্যাপী তাণ্ডব চালিয়ে বেশ কয়েকজন কৃষকের উঠতি বোরো ফসল খেয়ে ও পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে দিয়েছে বন্যহাতির দল।
এলাকার কৃষকরা বলেছেন, বন্যহাতির অব্যাহত তাণ্ডবে বোরো ফসল ঘরে তোলার আশঙ্কায় রয়েছেন।
শেরপুরের গারো পাহাড়ে প্রায় দুই যুগ ধরে বন্যহাতি অব্যাহতভাবে তাণ্ডব চালিয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে আসছে। সরকারিভাবে ফসলের ক্ষতিপূরণ হিসেবে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দেয়ার কথা থাকলেও ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তীতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানিয়েছেন।
উপজাতি কৃষক মি লুইস নেংমিনজা বলেন, আমরা ফসল বাঁচাতে হাতির সাথে আর কত যুদ্ধ করবো। আমার প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ধানক্ষেত খেয়ে সাবাড় করে দিয়েছে। সরকারি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য নিয়মানুযায়ী থানায় জিডি করার পর পুলিশ তদন্ত করে ক্ষতির পরিমাণ কম দেখানোয় ক্ষতিপূরণ পাইনি।
তিনি আরো জানান, পুলিশ বলেছেন ফসল ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত হাতির দল বার বার তাণ্ডব চালাতে পারে। তাই ফসল কাটা শেষ হলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিবে। কিন্তু তার আগে ফসল রক্ষা করতে মশাল জ্বালিয়ে হাতি তাড়াতে কেরোসিন তেলের প্রয়োজন। তারা সরকারিভাবে কেরোসিন তেল সরবরাহের দাবি জানান।
ওই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত গরীব কৃষক লিটন মিয়া, মার্টিন মারাক, আবুল মিয়া, শাহাব উদ্দিন, হালিম উদ্দীন ও হাসমত আলী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দাবিও করেন।
এ ব্যাপারে বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল করিম বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট ফরমে ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করে ক্ষতিপূরণের আবেদন করার পর তদন্ত সাপেক্ষে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাটা তাড়ানি, বুরুঙ্গা ও বাতকুচি এলাকার বেশ কয়েকজন কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে। এটি চলমান প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে সকল ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বছির আহমেদ বাদল বলেন, নিয়মানুযায়ী বন্যহাতির দ্বারা কোনো কৃষক যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে ক্ষতিপূরণ পেতে ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করে থানায় জিডি করতে হয়। থানায় জিডি করার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করে আমরা জিডি গ্রহণ করে তার প্রতিবেদন দিচ্ছি।



