ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে নওগাঁ জেলার মান্দার দেলুয়াবাড়িতে একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। হামলায় উপকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পল্লী বিদ্যুতের এক কর্মকর্তাসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।

বুধবার রাতে দেলুয়াবাড়ি উপকেন্দ্রে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহত ব্যক্তিরা হলেন - উপকেন্দ্রের স্টেশন কর্মকর্তা নজমুল হক (৪০), অফিস সহকারী আনোয়ারুল কবির (৪০), লাইনম্যান আবু সুফিয়ান (৩৩), মহানুর ইসলাম (২২) ও গোলাপ হোসেন (২৪)। তবে ওই হামলার ঘটনায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মামলায় জড়িয়ে ফাঁসানো ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে এবার খোদ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মান্দা জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রোজার প্রথম দিন থেকে হঠাৎ করেই বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়ে গেছে। দিনে কমপক্ষে ১০-১৫ বার বিদ্যুৎ-বিভ্রাট ঘটছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। এ অবস্থায় অতীষ্ঠ এলাকাবাসী ওই কেন্দ্রে হামলা চালায়।

এ ঘটনায় বুধবার রাতেই নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর আওতাধীন মান্দা জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সিরাজুল ইসলাম মান্দা থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। তবে এ মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অধিকাংশ আসামি হিসেবে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নাম জড়ানোর হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি।

এ প্রসঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মান্দা জোনাল অফিসের উপ মহাব্যবস্থাপক শফিউল আলম বলেন, সিলেটের বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ডে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলমান থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রেগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় তিন-চার দিন ধরে লোডশেডিং বেড়েছে। এ অবস্থায় লোডশেডিংয়ের অজুহাতে বুধবার রাত ৯টার দিকে দেলুয়াবাড়ি উপকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে কিছু উশৃঙ্খল লোকজন। হামলায় বাধা দেয়ায় ওই উপকেন্দ্রে কর্মরত পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে মারধর করেন হামলাকারীরা। এ সময় একটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর চালানো হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মান্দা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।