লক্ষ্মীপুরে মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার সময় নৌ-পুলিশের সাথে জেলেদের সংঘর্ষে আমির হোসেন (৩০) নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন। পুলিশের ছোড়া গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে পুলিশ তার মৃত্যুর কারণ জানায়নি। এ সময় আহত হয়েছেন নৌ-পুলিশের পাঁচ সদস্য, একজন স্পিডবোট চালক ও ১০ জেলে।
রোববার ভোরে সদর উপজেলার মজুচৌধুরীরহাট এলাকার মেঘনা নদীতে এ সংষর্ষ বাঁধে। নিহত আমিরের বাড়ি ভোলা জেলার রাজাপুর ইউনিয়নের চর মোহাম্মদ আলী গ্রামে। আহতদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আহত জেলেরা ভোলা জেলার রাজাপুর ইউনিয়নের চর মোহাম্মদ আলী গ্রামের বাসিন্দা। জাটকা রায় এপ্রিল ও মে দুই মাস দেশের ইলিশের অভয়াশ্রমগুলোতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনা নদীতে মাছ শিকারের সময় নৌ-পুলিশের সাথে জেলেদের এ সংঘর্ষ হয়।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: আনোয়ার হোসেন জানান, আহত মোট ১৬ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, নৌ-পুলিশের মজুচৌধুরীর হাটের সদস্যরা লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে জাটকা নিধন বিরোধী অভিযানে যায়। এ সময় মেঘনা নদীতে মাছ শিকাররত জেলেরা একত্রিত হয়ে হামলা চালায়। জেলেরা পুলিশের ওপর লাঠি দিয়ে হামলা করলে আত্মরার্থে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে পুলিশ। হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য ও পুলিশের স্পিডবোটের চালক আহত হন। অভিযানে একটি নৌকায় থাকা ১১ জেলেকে আহতাবস্থায় আটক করে পুলিশ। আহতদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে আমিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়। আটক জেলেদের নামে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।
গুলিতে জেলের মৃত্যু হয়েছে কি না জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, সেটা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।