রাঙ্গামাটির পাহাড়ে শুরু হয়েছে বিজু বৈসু সাংগ্রাই তথা বৈসাবি উৎসব। তবে উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) থেকে।

এদিন ভোরে নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিহু, বিষু ও সাংক্রান উৎসব। এ উপলক্ষে পাহাড়িদের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, বয়স্ক স্নান, বস্ত্র বিতরণ, বলি খেলাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিহু, বিষু ও সাংক্রান উৎসব উপলক্ষে দূর দূরান্তে অবস্থানরত পাহাড়ি মানুষগুলোর অধিকাংশই পরিবারের সদস্যদের সাথে আনন্দ উদযাপনের জন্য ইতোমধ্যে চলে এসেছেন।

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের পাহাড়ি চাকমা, ত্রিপুরা, তংচঙ্গ্যা ও মারমা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ আলাদা নামে হলেও একযোগে পালন করে এ উৎসব। চাকমারা বিজু, ত্রিপুরারা বৈসুক, মারমারা সাংগ্রাই আর তংচঙ্গ্যারা বিষু আর অহমিয়ারা বিহু নামে এ সামাজিক উৎসব পালন করে।

উৎসবকে ঘিরে নানান অনুষ্ঠানে ও খেলাধুলা চলছে পুরো পার্বত্য এলাকায়।

দুই বছর পর রাঙ্গামাটিসহ অন্য পাহাড়ে এ সামাজিক উৎসব পালন করা হচ্ছে এবার সারম্বরে। করোনা মহামারীর কারণে গত দুটি বছরে উৎসবের আয়োজন ছিল সীমিত। এবার করোনামুক্ত পরিবেশে সামাজিক উৎসবকে কেন্দ্র করে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেছে পাহাড়ের মানুষ।

বৈসাবি উৎসবের বর্ণিল আয়োজনে রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনিস্টিটিউট প্রাঙ্গণে শুরু হয়ে গেছে পাঁচ দিনের বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু সংস্কৃতি মেলা।

রোববার (১০ এপ্রিল) পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমার নেতৃত্বে বিজু সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু তথা বৈসাবি উৎসবকে স্বাগত জানিয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। রেলি শেষে অনুষ্ঠিত হয় পাহাড়িদের মনোজ্ঞ ডিসপ্লে।

১২ এপ্রিল উৎসবের প্রথম দিন। চাকমা, ত্রিপুরা, তংচঙ্গ্যা জাতির ফুল বিজু বৈসু কিংবা বিষু। এদিন গঙ্গা দেবীর আরাধনায় নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হবে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

পরদিন ১৩ এপ্রিল চৈত্র সংক্রান্তির দিনকে বলা হয় মূল বিজু, বৈসু বা বিষু। এদিন ঘরে ঘরে রান্না হবে হরেক রকমের সবজির মিশ্রণে ঐতিহ্যবাহী পাজন। দিনভর ঘরে ঘরে চলে অতিথি আপ্যায়ন।

আর ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের বরণ উপলক্ষে থাকে আনন্দ আয়োজন। ১৫ ও ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে মারমাদের ঐ্যতিহ্যবাহী জলখেলি তথা পানিখেলা উৎসব। মারমা তরুণ-তরুণীরা জলখেলিতে অংশ নিয়ে উৎসবে মেতে উঠে।