চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দোস্ত গ্রামে টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রকে প্রকাশ্যে খুঁটির সাথে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। রোববার দুপুরে দোস্ত গ্রামের মায়ের দোয়া ফ্যাশন হাউজে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার আরাফাত রহমান (১১) দোস্ত গ্রামের বসতিপাড়ার কৃষক মনোয়ার হোসেনের ছেলে এবং দোস্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। অভিযুক্ত মায়ের দোয়া ফ্যাশন হাউজের মালিক আলী আহমদের দাবি, প্রতিনিয়ত দোকানের টাকা চুরির ঘটনা ঘটছে। রোববার টাকা চুরির অভিযোগে কিছুক্ষণ ছেলেটিকে দঁড়ি দিয়ে বেঁধে রাখলেও মারধর করা হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, মায়ের দোয়া ফ্যাশন হাউজের মালিকের নাম আলি আহমেদ। বেশির ভাগ সময়ই বাড়ির নারীরা দোকানটি পরিচালনা করেন। প্রায়ই এ দোকান থেকে টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তকে ধরতে তারা ওঁৎ পেয়ে থাকে। রোববার দুপুরে টিফিনের সময় ওই স্কুলছাত্র খাবার কিনতে আসলে তাকে টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা হয়। মারধরও করা হয়। তবে তার শরীর তল্লাশি করে কোনো টাকা পাওয়া যায়নি। তারা আরো বলেন, কেউ যদি চুরিও করে তাহলে আইনি পদক্ষেপ নেয়াটা জরুরি। নিজের হাতে আইন তুলে নেয়াটা ঠিক নয়। শিশুর প্রতি এহন আচরণের ধিক্কার জানিয়েছে সচেতন মহল।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোমিন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনা জানতে পেরে ওই দোকানে গিয়ে তাকে মুক্ত করে আনি। তবে তার কাছে কোনো টাকা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু সালেহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কেউ যদি চুরিও করে এভাবে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা আইন লঙ্ঘন।
দর্শনা থানা পুলিশের ওসি এ এইচ এম লুৎফুর কবির বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নেবো। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।