রাঙ্গামাটির পাহাড়ে শুরু হয়েছে বিজু বৈসু সাংগ্রাই তথা বৈসাবি উৎসব। আজ মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে বৈসাবি উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। আজ ভোরে নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিহু, বিষু ও সাংক্রান উৎসব। এ উপলক্ষে পাহাড়িদের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, বয়স্ক স্নান, বস্ত্র বিতরণ বলি খেলাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিহু, বিষু ও সাংক্রান উৎসব উপলক্ষে দূরদুরান্তে অবস্থানরত পাহাড়ি মানুষগুলো পরিবারের সদস্যদের সাথে আনন্দ উদযাপনের জন্য শহরে গ্রামে চলে এসেছেন।
পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের আদিবাসী পাহাড়ি চাকমা, ত্রিপুরা, তংচঙ্গ্যা ও মারমা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ আলাদা নামে হলেও একযোগে পালন করে এ উৎসব। চাকমারা বিজু, ত্রিপুরারা বৈসুক, মারমারা সাংগ্রাই আর তংচঙ্গ্যারা বিষু আর অহমিয়ারা বিহু নামে এ সামাজিক উৎসব পালন করে। উৎসবকে ঘিরে নানান অনুষ্ঠানে ও খেলাধুলা চলছে পুরো পার্বত্য গ্রামীণ এলাকায়।
বৈসাবী উৎসবের বর্ণিল আয়োজনে রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনের বিজু সাংগ্রাই বৈসুক বিষু সংস্কৃতি মেলা।
১২ এপ্রিল উৎসবের প্রথম দিন। চাকমা, ত্রিপুরা, তংচঙ্গ্যা জাতির ফুল বিজ বৈসু কিংবা বিষু। এদিন গঙ্গা দেবীর আরাধনায় নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হবে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
কাল ১৩ এপ্রিল চৈত্র সংক্রান্তির দিনকে বলা হয়, মূল বিজু, বৈসু বা বিষুু। এ দিন প্রতি ঘরে রান্না হবে হরেক রকমের সবজির মিশ্রণে ঐতিহ্যবাহী পাজন। দিনভর ঘরে ঘরে চলবে অতিথি আপ্যায়ন।
আর ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের বরণ উপলক্ষে থাকে আনন্দ আয়োজন ১৫ ও ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে মারমাদের ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা উৎসব। মারমা তরুণ তরুণী এতে অংশ নিয়ে উৎসবে মেতে ওঠে।
এবার করোনামুক্ত পরিবেশে বিজু, সাংগ্রাইং, বৈসুক, বিষু, বিহু ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রত্যেক এলাকায় আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠান।
এ বছর বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসার কারণে রাঙ্গামাটিসহ পাহাড়ের সর্বত্র বিজু বৈসুক সাংগ্রাই উৎসব আনন্দঘন পরিবেশে পালিত হবে এবং এর মাধ্যমে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হবে বলে এমন আশা সবার।
রাজধানীতে আজ বৈসাবি উৎসব : পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ি জাতিসত্তার বর্ষবিদায় ও বরণে রাজধানীতে আজ পালিত হবে বৈসাবি উৎসব। এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় আজ মঙ্গলবার নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। গতকাল মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।