কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় প্রেমিককে হত্যার দায়ে প্রেমিকার আমৃত্যু কারাদণ্ডসহ পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো: তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামি ছাড়া সবাই আদালতে উপস্থিত ছিল।
আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শিখা খাতুন দৌলতপুর উপজেলার ভুরকাপাড়া গ্রামের আবদুল মান্নানের মেয়ে। যাবজ্জীবন প্রাপ্তরা হলেনÑ দৌলতপুর উপজেলার ভুরকাপাড়া গ্রামের মৃত জলিল সরদারের ছেলে আবদুল মান্নান (৬০), তার ছোট ভাই সাদু সরদার (৪৬), একই গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে সাজুল সরদার (৪৫), মৃত শওকত সরদারের ছেলে বজলু সরদার ওরফে বজু (৪৮) ও রাজন আলীর স্ত্রী আজমিরা খাতুন (৩২)। পিপি অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী জানান, আসামি শিখার সাথে ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ খন্দকার পাড়া এলাকার মীর শহীদুলের ছেলে রায়হানের (২৬) প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের এ সম্পর্ক শিখার পরিবার মেনে না নেয়ায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ২০১৬ সালের ৬ অক্টোবর রাতে রায়হানকে ফোন করে বাসায় ডেকে আনেন শিখা। ওই রাতেই আসামিরা রায়হানকে মারধরে হত্যার পর লাশ গুম করে রাখেন। পরদিন ৭ অক্টোবর ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ পালপাড়া এলাকা থেকে পুলিশ রায়হানের লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ৯ অক্টোবর নিহতের বাবা মীর শহীদুল আসামিদের বিরুদ্ধে ভেড়ামারা থানায় মামলা করেন। মামলা তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে ধার্য দিনে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।