ধান কাটতে দখলকারীদের বাধা দেয়ায় জমির মালিককে থানায় নিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানায় এ ঘটনা ঘটেছে।

জমি দখলে বাধা না দেয়ার শর্তে বুধবার রাতে সেহেরির আগে থানা থেকে মুক্তি দেয়া হয় ওই কৃষককে।

ভুক্তভোগী জমির মালিক শামীম অহমেদ জানান, বুধবার বিকেল ৪টায় গাছা থানা যুবলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী আমিন উদ্দিন সরকারের নেতৃত্বে যুবলীগের ২৫ থেকে ৩০ জনের বাহিনী জমি দখলের জন্য ধান কেটে বাউন্ডারি নির্মাণের চেষ্টা করেন। এ সময় দখলকারীদের সাথে গাছা থানার এসআই সজীব দেবনাথও সিভিল পোশাকে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, দখলে বাধা দেয়ায় গাছা থানা থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং উভয়পক্ষকে জমির কাগজপত্র নিয়ে থানায় যেতে বলে। এ সময় এসআই সজীব দেবনাথের মোটরসাইকেলে উঠিয়ে তাকে (কৃষক শামীমকে) থানায় নিয়ে হাজতে আটকে রাখেন। অবশেষে জমি দখলে বাধা দিবেন না এমন শর্তে মুচলেকা নিয়ে সেহরির আগে থানা হাজত থেকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

স্থানীয় মৈরান মৌজায় প্রায় পৌনে এক বিঘা জমি পৈত্রিক সূত্রে শামীমরা যুগ যুগ ধরে ভোগদখল করে আসছেন দাবি করে বলেন, প্রশাসনের সহায়তায় যেভাবে জোর-জুলুম করে ক্ষেতের ধান কেটে জমিটি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে তাতে নিজেদেরকে রোহিঙ্গার মতো মনে হয়েছে। এদেশে যেন আমাদের থাকার কোনো অধিকারই নেই।

এদিকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সাংবাদিক আনিসুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, জমির মালিক তার চাচাতো ভাই। দখলকারীদের কাঁচাধান কাটার দৃশ্য দেখে তিনি মোবাইল ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করছিলেন। এতে গাছা থানার এসআই সজীব দেবনাথ তার হাত থেকে মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন। তিনি সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরও ওই পুলিশ অফিসার তার সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন এবং থানায় নিয়ে ‘শায়েস্তা’ করার হুমকি দেন।

এ ঘটনায় আনিসুল জিএমপি দক্ষিণ বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিচারপ্রার্থী হলে ঘটনার ভিডিওচিত্র মুছে দিয়ে রাতেই মোবাইল ফোনটি তাকে ফেরত দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা আমিন সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, জমিতে শামীমদের মালিকানা নেই। শামীমদের কাছ থেকে যিনি জমিটি ক্রয় করেছেন তিনিই জমিটি চাষাবাদের জন্য শামীমকে দিয়েছিলেন। কিন্তু শামীম জমির দখল না ছাড়ায় আমি ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতিপ্রার্থী রশিদকে জমিটি মেপে প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য পাঠিয়েছিলাম।

এ ব্যাপারে গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইসমাইল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য শামীমকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছিল। পরে প্রতিমন্ত্রীর চাচা মতিউর রহমান মতির মধ্যস্থতায় আগামী শনিবার থানায় বসে ফয়সালার শর্তে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিকের মোবাইল ফোন পুলিশ অফিসারের হেফাজতে নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি ছিল একটি ভুল বুঝাবুঝি। পরে রাতে সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ফেরত দেয়া হয়েছে।