নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় এক হিন্দু শিক্ষিকার বিরুদ্ধে সোস্যাল মিডিয়াতে ফেসবুকে হিজাব বিতর্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে মহাদেবপুর থানা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে তাদের নওগাঁ আদালতে পাঠানো হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে মহাদেবপুর সদরের বই পট্টি ও কুষারসেন্টার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মহাদেবপুর উপজেলা সদরের বাসিন্দা মৃত কাজী দেলোয়ার হোসেনের ছেলে কিউ এম সাঈদ টিটো (৬০) এবং সদরের কুষারসেন্টার এলাকার কাজী ময়েন উদ্দীনের ছেলে কাজী সামসুজ্জোহা মিলন (৪৫)।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আযম উদ্দীন মাহমুদ জানান, উপজেলার দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা আমোদিনি পাল বাদি হয়ে থানায় মামলা করলে তাদের গ্রেফতার করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধরণী কান্ত বর্মন, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহমুদুল হাসান সুমন ও পোরশা উপজেলার গহেরপুর গ্রামের বাসিন্দা সালাউদ্দীন আহম্মেদ। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরো ২০ থেকে ২৫জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার এসআই শামিনুল ইসলাম জানান, অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বাকি আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতার করা যায়নি। তাদের অতি তাড়াতাড়ি গ্রেফতার করা হবে।

নওগাঁ পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান মিয়া জানান, জড়িতদের অনলাইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
প্রসঙ্গত চলতি মাসের প্রথম দিকে উপজেলার দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত স্কুল ড্রেস পরে না আসায় দুই শিক্ষক শাসন করার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করা হয় হিজাব পরে আসার শাস্তি হিসেবে। ফলে এলাকাবাসী প্রতিবাদ হিসেবে স্কুলে গিয়ে পাঁচটি প্লাস্টিক চেয়ার ভাঙ্গে। আসলে হিজাব বিতর্কের অন্তরালে রয়েছে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্দ্ব, অনিয়ম ও দুর্নীতি।