ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের বেশাইনখান শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারিতে নবনির্বাচিত এক অভিভাবক সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বেশাইনখান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো: শাহ আলম হাওলাদার (৫৫) স্কুলটির ম্যনেজিং কমিটির নির্বাচনে গত সোমবার ভোটে অভিভাবক সদস্য পদে নির্বাচিত হন। তিনি একই ইউনিয়নের সিংহপুর গ্রামের মৃত খালেক হাওলাদারের ছেলে। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য নিরু হাওলাদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানায়, সোমবার বেশাইনখান শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে অভিভাবক সদস্য পদে সর্বোচ্চ ভোটে মো: শাহ আলম হাওলাদার নির্বাচিত হন। তিনিসহ বিজয়ী পাঁচ অভিভাবক সদস্য বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি প্রার্থী সাইদুর রহমান হিরুর সমর্থক। অভিভাবক সদস্য পাঁচটি পদে পরাজিত হয় প্রতিদ্বন্দ্বী সভাপতি প্রার্থী মো: সেলিমের সমর্থিতরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরাজিত অভিভাবক সদস্য প্রার্থী ইউপি সদস্য নিরু হাওলাদারের নেতৃত্বে মঙ্গলবার রাতে গ্রামের বাড়ির কাছে একটি চায়ের দোকানে শাহ আলম ও তার ছেলে রাকিব হাওলাদারের ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে বাবা ও ছেলে দু’জনই আহত হয়। তাদের ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহ আলমকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে রাকিব অভিযোগ করেন, তাদের প্রতিবেশী কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নিরু হাওলাদার ও স্থানীয় মামুন নির্বাচনের কয়দিন আগে থেকেই তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। নির্বাচনে হেরে পরদিন সন্ধ্যায় বাড়ির কাছে মহড়া দেয়। রাতে নিরু ও মামুনের নির্দেশে একই এলাকার ফয়সাল, রাসেল ও রানাসহ আরো কয়েকজন তারাবির নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় আমার ওপর হামলা চালায়। আমাকে বাঁচাতে বাবা এলে তাকেও মারধর করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবার মৃত্যু হয়।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক এস কে বড়াল বলেন, শাহ আলমকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের আগে অনুমান করা যাচ্ছে না।
ঝালকাঠি থানার ওসি খলিলুর রহমান বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের পরে জানা যাবে কী কারণে শাহ আলমের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইউপি সদস্য নিরু হাওলাদারকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।