হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে পুলিশ নিয়ে মসজিদে গিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা দিলেন গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে মহানগরের উত্তর ভুরুলিয়া আদর্শপাড়া জামে মসজিদে ইউএনও’র নয়া কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।

মসজিদ কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম লম্বরী তাৎক্ষনিকভাবে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে তিনি জানান, গত বছর ৬ এপ্রিল থেকে উত্তর ভুরুলিয়াস্থ আদর্শ পাড়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ‍তিনি। এলাকার কতিপয় লোক গাজীপুর সদর উপজেলার সেই সময়ের নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জাকীকে ভুল বুঝিয়ে মসজিদ কমিটি গঠনের বিষয়ে ২০২০ সালের ১৫ জুলাই ভুল তথ্যের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করান। পরবর্তীতে ইউএনও’র প্রকাশিত প্রতিবেদন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং-৪২১৮/২০২০) করা হয়।

তিনি আরো বলেন, এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ইউএনও’র প্রতিবেদনকে কেন আইনগত কর্তৃপক্ষ ছাড়া পাশ করা হয়েছে হিসেবে ঘোষণা করা হবে না এবং এর কোনো আইনী কার্যকারিতা নেই ব্যাখ্যা চেয়ে সেই সময়ের গাজীপুরের জেলা প্রশাসক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওই এলাকার গোলাম মহিউদ্দিন কাজলসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন।

এ সময় তিনি জানান, পাশাপাশি পক্ষসমূহকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন, যা এখনো চলমান রয়েছে বলে দাবি করেন মসজিদ কমিটির সভাপতি।

তবে এব্যাপারে হাইকোর্টের আদেশ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না দাবি করে ইউএনও সৈয়দ মুরাদ আলী জানান, তিনি জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মসজিদ কমিটির নির্বাচন পরিচালনা করেছেন এবং কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় নতুন কমিটি ঘোষণা দিয়েছেন। নতুন কমিটি ঘোষণা দিতে মসজিদে যাওয়ার পর যারা তাকে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার কথা বলেছিলেন তারাই পরে জানিয়েছেন ওই নিষেধাজ্ঞার এখন আর কোনো কার্যকারিতা নেই।

হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা এখনো বহাল আছে দাবি করে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম লম্বরীর ছেলে মোশারফ হোসেন লম্বরী বলেন, হাইকোর্টের আদেশের কপি দেখাতে চাইলে ইউএনও সেটি দেখতে চাননি।

মসজিদের মুসল্লি উত্তর ভুরুলিয়া আদর্শ পাড়ার বাসিন্দা সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা কফিল উদ্দিন বলেন, একটি কমিটির কার্যক্রম চলমান থাকাবস্থায় নতুন কমিটি ঘোষণায় এলাকায় সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।