ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বহুলী তমিজ উদ্দিন নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি ১৯৮৬ সালে এমপিওভুক্ত হয়। প্রথম থেকেই বিদ্যালয়টিতে কোনো শিক্ষার্থী না থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে সরকারি সুবিধা ভোগ করে চলেছেন। শুধু তাই নয়, মনগড়া ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে মোটা অঙ্কের সুবিধা নিয়ে একাধিক শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে উপজেলার বহুলী গ্রামের সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মরহুম আব্দুল বারেক চৌধুরী তমিজ উদ্দিন নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টির নামে এক একর জমি দান করেন। পরে বিদ্যালয়টি ১৯৮৬ সালে এমপিওভুক্ত হয়। প্রথম দিকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী থাকলেও শিক্ষক সঙ্কট ও যোগ্য শিক্ষক না থাকায় বর্তমানে শিক্ষার্থী ছাড়াই চলছে এর কার্যক্রম।
সম্প্রতি স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, একটি লম্বা টিনশেড হাফ বিল্ডিং ঘর। দরজা-জানালাবিহীন, নেই কোনো পার্টিশন, কয়েকটি বেঞ্চ রয়েছে। একপাশে ছোট একটি রুম অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অপর একটি ছোট রুমের একপাশে প্রায় ২০০ সেট নতুন বই মেঝেতে পড়ে আছে। বালিকা বিদ্যালয় হলেও দু’টি বেঞ্চে বেশ কয়েকজন ছেলে মেয়ে বসে আছে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি সফিউল আলম লিটন জানান, করোনার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্র্থীর সংখ্যা কমে গেছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোকসান খাতুন বলেন, কিছুদিন হলো আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছি। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ১৮২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার্থী বৃদ্ধি করাসহ বিদ্যালয়টিকে পরিপূর্ণভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, বহুলী তমিজ উদ্দিন নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী না থাকার কথা তিনি শুনেছেন এবং ইতঃপূর্বে দু’বার পরিদর্শন করে একদিন সাতজন ও আরেক দিন ১৭ জন শিক্ষার্থী পেয়ে মৌখিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেকে জানিয়েছেন। ২০১৮ সালের পর বিদ্যালয়টির কেনো নবায়ন নেই এমন বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়নি।
উপজেলা নির্র্বাহী কর্মকর্তা সালমা খাতুন জানান, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।