রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে নিউমার্কেটসহ আশপাশের বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও হকারদের সংঘর্ষের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নির্যাতন ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিক। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা)।

শুক্রবার বিকেলে ডুজার সভাপতি মামুন তুষার ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম
রুবেল এক যৌথ বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের সময় দীপ্ত টিভির সাংবাদিক আসিফ সুমিত, মানব জমিনের শুভ্র দেব, ডেইলি স্টারের প্রবীর দাস ও বাংলা ট্রিবিউনের শাহেদ শফিকসহ আরো বেশ কয়েকজন সাংবাদিক হামলা ও লাঞ্ছনার শিকার হন। সংঘর্ষে দুই পক্ষের সমর্থকেরা যেভাবে সাংবাদিকদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছেন, তা কোনো সভ্য সমাজে কাম্য হতে পারে না। এই ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে পদদলিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, গণমাধ্যম সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি, নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনটি মামলা হয়েছে। তিন মামলার মধ্যে দুটির বাদি পুলিশ। যার মধ্যে একটি মামলা করা হয়েছে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে, অন্যটি দাঙা-হাঙামা, জ্বালাও-পোড়াও ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে।

অন্যদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ডেলিভারিম্যান নাহিদ মিয়ার চাচা মো: সাঈদ একটি হত্যা মামলা করেন।

নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের সময় সাংবাদিক নির্যাতন ও লাঞ্ছনার ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলাম, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ-প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাথা-ব্যথা নেই।

গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে কোনো ধরনের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এটি অনুমেয় যে নির্যাতিত-লাঞ্ছিত সাংবাদিকেরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সমর্থন না পেলে আইনি জটিলতায় নিজেদের জড়াতে চাইবেন না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি মনে করে, অতীতে সাংবাদিক নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনায় কোনো বিচার বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের উদাহরণ না থাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা প্রতিনিয়তই চলেছে। তাই অনতিবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

এছাড়াও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষের প্রতি সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সমর্থন দিয়ে নির্যাতিত-লাঞ্ছিত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানায় ডুজা।

এ সময় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সাংবিধানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সাংবাদিক নির্যাতন ও লাঞ্ছনার ঘটনার প্রতিকার প্রয়োজন।

এছাড়াও প্রয়োজনে পৃথক আদালত গঠন করা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে গণমাধ্যমের অসামান্য ভূমিকাকে বিবেচনায় নিয়ে সাংবাদিক নির্যাতন ও লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানান ডুজার নেতৃবৃন্দ।