দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ধান ক্ষেতের খোলসা (বাঁশ দিয়ে তৈরি মাছ ধরার বিশেষ ফাঁদ) থেকে মাছ চুরির অভিযোগে সুমন মিয়া নামের ২৫ বছরের এক প্রতিবন্ধী যুবককে গাছের সাথে বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার ভোরে উপজেলার ভাতছালা গ্রামে স্থানীয় কয়েকজন তাকে এভাবে নির্যাতন করে বলে জানা যায়।

নির্যাতিত সুমন মিয়া উপজেলার ২নং পালশা ইউনিয়নের ছয়ঘট্টি-বেলওয়া গ্রামের লতিফ মিয়ার ছেলে। সে ছোট বেলায় প্যারালাইসিসে আক্রন্ত হওয়ায় বাম পায়ে শক্তি পায় না।

সুমনকে এই নির্যাতনের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা রীতিমতো ভাইরাল হয়। এবং এ ঘটনায় তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। সেই সাথে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে এলাকার মানুষ।

ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলার ভাতছালা গ্রামের হামিদ মিয়ার ছেলে শাহারুল ইসলাম (৪৫) ও একই গ্রামের ইজ্জত আলীর ছেলে মোস্তাফিজুর (৩২) এবং তাঁতিপাড়া-বেলওয়া গ্রামের মৃত নুরু মিয়ার ছেলে ফারাজ আলী (৫৫) প্রতিবন্ধী সুমনকে একটি গাছের সাথে রশি দিয়ে দুই হাত বেঁধে লাঠি ও হাত দিয়ে পর্যায়ক্রমে নির্যাতন করছেন। অন্যদিকে প্রতিবন্ধী সুমন তাকে আর না মারার অনুরোধ করছে এবং ছেড়ে দেয়ার আকুতি-মিনতি করছে।

এ ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতিত সুমনের বড় ভাই সাইফুল ইসলাম।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছোট মাছ ধরার জাল নিয়ে জমিতে টাঙ্গিয়ে দিয়ে আসে আমার ছোট ভাই সুমন। শুক্রবার ভোরে আমার মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে সে জমিতে যায় জাল থেকে মাছ নিয়ে আসতে। সেই সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জমি থেকে তাদের মাছ ধরার খোলসা থেকে মাছ চুরি করার মিথ্যা অভিযোগ এনে আমার ভাইকে গাছের সাথে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করে।

অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু হাসান কবির বলেছেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে নির্যাতনের স্বীকার হয়ে প্রতিবন্ধী সুমন মিয়া ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, সুমনের শরীরে প্রচুর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়াও বাম চোখের নিচে গুরুতর আঘাত রয়েছে। তবে সে এখন আশঙ্কামুক্ত।