জেলা সদরের সরোজগঞ্জ বাজারে ‘নড়াইল আশার আলো ফাউন্ডেশন’ নামে একটি বেসরকারি উন্নয়নমূলক সংস্থার (এনজিও) সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে সোহেল রানা নামে এক এনজিও কর্মী গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গ্রাহকদের সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার কথা বলে সদস্য ভর্তি ফি বাবদ প্রত্যেকের কাছ থেকে পাঁচশ’ থেকে ১১শ’ টাকা করে হাতিয়ে নেন তিনি।
চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে কথিত এনজিও কর্মী সোহেল রানার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে নড়াইল আশার আলো ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক আফরোজা খানম জানান চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জে তাদের কোনো শাখা অফিস নেই। তিনি আরো জানান, সোহেল রানা নামে যে ব্যক্তি ওই সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে প্রতারণা করেছে বলে শুনেছি, তিনি এক সময় এই এনজিওতে চাকরি করতেন। কিন্তু নানা অনিয়মের কারণে তাকে অনেক আগেই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা ঝিনাইদহ সড়কের সরোজগঞ্জ সরকারি ফুড গোডাউনের অদূরে একটি চতুর্থ তলা ভবনের দোতলা ভাড়া নিয়ে নড়াইল আশার আলো ফাউন্ডেশনের শাখা কার্যালয় খুলে বসেন সোহেল রানা নামে একজন।
ভুক্তভোগীদের একজন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গড়াইটুপি ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের মেয়ে রতœা খাতুন জানান, তাকে চাকরি দেয়ার কথা বলে ২১ হাজার ৭শ’ টাকা নিয়েছে সোহেল রানা। একই গ্রামের ছেলে অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সাহাবুর হোসেনের কাছ থেকে ২৭ হাজার ৩শ’ টাকা হাতিয়ে নেয়া ওই এনজিও কর্মী।
এ বিষয়ে নড়াইল আশার আলো ফাউন্ডেশনে ওয়েবসাইটে দেয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে আফরোজা খানম নামের নির্বাহী পরিচালক জানান, সোহেল রানা এক সময় আমাদের স্টাফ ছিলেন। আমাদের অফিস হচ্ছে নড়াইল রুপগঞ্জে। চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জে আমাদের কোনো অফিস নেই।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালক মৌমিতা পারভীন জানান, এ ধরনের এনজিও সম্পর্কে আমরা অবগত নই। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।



