কুমিল্লার দেবিদ্বারে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর গতকাল শনিবার ভোরে না ফেরার দেশে চলে গেলেন গৃহবধূ সাদিয়া আক্তার। স্বামীর দেয়া কেরোসিন তেলের আগুনে দগ্ধ সাদিয়া গত সাত দিন ধরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
সাদিয়া কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার পদ্মকোট গ্রামের মো: ফরিদুল আলম অপুল সরকারের মেয়ে। জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল যৌতুকের টাকার জন্য কেরোসিন ঢেলে সাদিয়ার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন তার স্বামী আসাদ সরকার। আগুন দেয়ার পরপরই প্রতিবেশীদের ডেকে জানানো হয়, গ্যাসের চুলা থেকে আগুন লেগেছে তার গায়।
তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি করা হয় সাদিয়াকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাদিয়া এক ভিডিও বার্তায় জানান, যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার স্বামী আসাদ তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এর আগেও কয়েকবার তাকে আগুনে পুড়িয়ে মারার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
সাদিয়ার এমন একটি ভিডিওবার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বেশ তোলপাড় শুরু হয়। পরে দেবিদ্বার থানা পুলিশ স্বামী আসাদকে আটক করে। আসাদ দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর গ্রামের নুরু সরকারের ছেলে। তিনি সাদিয়াকে নিয়ে পৌর এলাকার বানিয়াপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। সাদিয়া ওই ভাড়া বাসায় অগ্নিদগ্ধ হন।
এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, সাদিয়ার স্বামীকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। থানায় দায়ের করা মামলাটি শিগগিরই হত্যা মামলায় রূপান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।