বরগুনার তালতলীতে বসতবাড়ির সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তি চলাকালে উপস্থিত লোকজনের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রের উপর হামলা করেছে প্রতিবেশীর মাদকসেবী ছেলে। এ সময় সাথে থাকা শিক্ষার্থীর চাচাও হামলার শিকার হন। শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের ওই ছাত্র ও তার চাচার উপর হামলা করেছে প্রতিবেশীর ছেলে মাদকসেবী ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি বশিরউদ্দিন ফোরকান।

এ সময় হামলাকারী ফোরকানের ছোট ভাই ইমরান, তার বাবা সেলিম মোল্লা ও মা-বোন উপস্থিত ছিল।

জানা গেছে, তালতলী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও নয়া দিগন্ত সংবাদদাতা মো: ইউছুফ আলীর তালতলী ছাতনপাড়া হাসপাতাল রোডের বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে প্রতিবেশী সেলিম মোল্লার সাথে দীর্ঘ দিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক ইউছুফ তালতলী থানায় জানালে ওসি সাখাওয়াত হোসেন তপু আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে এসআই আমিনুলকে সার্ভেয়ার নিয়ে জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ করার দায়িত্ব দেন।

পরে শুক্রবার এসআই আমিনুল ইসলাম জমি মাপার তারিখ নির্ধারণ করেন। নির্ধারিত দিনে দুই পক্ষের সার্ভেয়ার ও সালিশীগণ উপস্থিত হলেও এসআই আমিনুল উপস্থিত ছিলেন না। এ সময় প্রতিবেশী সেলিম মোল্লার মাদকসেবী ছেলে ও নারী নির্যাতন মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি বশিরউদ্দিন ফোরকান অহেতুক তর্কের সৃষ্টি করেন এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র অরিফ বিল্লাহকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। এ সময় ওই ছাত্রের চাচা নিজাম উদ্দিন এগিয়ে এলে তাকেও কিল ঘুষি লাথি মারেন।

ঘটনা চলাকালে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত হয়ে ঘটনা দেখতে পান।

এসআই আমিনুলকে মোবাইল ফোন করলে তিনি বলেন, আমি আসতেছি কিন্তু তিনি ঘটনাস্থলে যাননি।

এ সময় তালতলী থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন তপুর নিকট সহযোগিতার জন্য ফোন করলে তিনি বলেন, বিষয়টি দেখতেছি। কিন্তু ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়নি।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র অরিফ বিল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবা বাড়ির সীমানা বিরোধ নিস্পত্তির জন্য থানা পলিশের সহযোগিতা চাইলে এসআই আমিনুল ইসলাম উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি না আসায় আমাদের ওপর হামলা হয়েছে।

এ বিষয় বরগুনার পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর মল্লিকের কাছে মোবাইল ফোনে জানালে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি জেনে দেখতেছি।