চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল কলেজ প্রাঙ্গণ। গতকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে অনশন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। এ সময় ছাত্রছাত্রীরা নানা স্লোগানের মধ্যদিয়ে তাদের দাবি জানাতে থাকে। কিন্তু সব কিছু উপেক্ষা করেই নিজের রুমে তালা লাগিয়ে বসে থাকতে দেখা যায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম সরোয়ার মিঠুকে।
কলেজ সরকারীকরণের ঠিক আগে চারজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে বাদ দিয়ে তৎকালীন গভর্নিং বডিকে ম্যানেজ করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হয়েছেন গোলাম সরোয়ার- এমন অভিযোগ ওঠে অনেক দিন আগেই। তিনি একজন উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক হলেও পরিচালনা করছেন সরকারি ডিগ্রি কলেজ। টানা তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে কয়েকজন অনুসারীকে নিয়ে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে। তাই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদত্যাগ ও কলেজে ডেপুটেশনে একজন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে কলেজটি সরকারীকরণ করা হয়। ঠিক তার কয়েক মাস আগে কলেজের তৎকালীন গভর্নিং বডি গোলাম সরোয়ারকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়।
আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা বলেন, কলেজের এমপিও শিট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জ্যেষ্ঠতার দিক দিয়ে আবু সৈয়দ আল মামুন রেজা,আলম হোসেন,আব্দুল মোনায়েম ও শেখ শফিউজ্জামানের পরের অবস্থানে আছেন গোলাম ছরোয়ার। তিনি কৃষি শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্ত। শিক্ষকরা বলছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হতে হলে তাকে ডিগ্রি পর্যায়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হতে হবে। কিন্তু কৃষি শিক্ষা বিষয়টি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের।
এ বিষয়ে গোলাম সরোয়ার মিঠু বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়। কিছু শিক্ষক ছাত্রদের আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে।



