কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের গৌরাঙ্গবাজার মোড়ে একটি মিষ্টির দোকানে রোববার বিকেলে বন্ধুদের নিয়ে রসগোল্লা খেতে যায় কলেজশিক্ষার্থী আরিফ। তিন বন্ধু মিলে ছয়টি মিষ্টি খেয়ে নির্দিষ্ট দাম ৯০ টাকা বের করে দেন। কিন্তু দোকানদার আরো ৩০ টাকা দাবি করেন।

আরিফ বলেন ‘কেনো? মিষ্টির দাম তো ১৫ টাকা করেই!’

দোকানদারের জবাব, ‘দাদাদের দেখি খবর নাই, ঈদের দিন থেকে মিষ্টির দাম বেড়ে গেছে।’

আরিফ চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বলেন, ‘এজন্য কি একটা মিষ্টিতে পাঁচ টাকা!’ দোকানদার বলেন, ‘হ্যাঁ, ১৫ টাকার মিষ্টি এখন ২০ টাকা।’

কিশোরগঞ্জ শহরের প্রতিটি মিষ্টির দোকানেই অবস্থা এখন এরকম। বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে সব ধরনের মিষ্টির দাম। রসগোল্লার দাম কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অন্যান্য মিষ্টির দামও একই হারে বেড়েছে।

মূলত কিশোরগঞ্জ শহরের দোকানগুলোতে দু’ধরনের রসগোল্লা বিক্রি হয়। একটি সাধারণ রসগোল্লা। অপরটি দানাদার। মধ্যবিত্তরা আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে গেলে সাধারণত এই মিষ্টিই নিয়ে যায়। ঈদের আগে মিষ্টির কেজি ছিল সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে। ঈদের দিন থেকে পরবর্তী কয়েকদিন বিক্রি হয়েছিল তিন শ’ টাকা কেজি দরে।

মিষ্টি ব্যবসায়ীরা জানায়, ঈদে কর্মচারীদের বেশি মজুরি দিতে হয়েছে। এখন তেলের দাম বেড়েছে, চিনিসহ মিষ্টি তৈরির অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়েছে, তাই আমাদের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই।

শহরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকান মদনগোপাল সুইটস কেবিনে মূলত মালাইকারি, বালিশ, মৌচাক, রসগোল্লা, দানাদার, কালোজাম, চমচম, বরফি, রসমালাই বিক্রি হয়। এগুলোর প্রতিটির দামই কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বালিশ ও বরফির দাম কেজিতে ১০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

জেলা শহরের একরামপুরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকান ‘লক্ষী নারায়ণ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’। তাদের ‘রসমঞ্জরি’ সারা দেশে বিখ্যাত। ঈদের আগে এটির কেজি ছিল চার শ’ টাকা। এই মিষ্টি তারা এখন বিক্রি করছে ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকা কেজি দরে।

লক্ষী ভাণ্ডারের ম্যানেজার গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা বলেন, মিষ্টি তৈরির সব উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় মিষ্টির দাম বাড়ানো হয়েছে।