ঈদ উপলক্ষে রোহিঙ্গারা আইনের কোনো তোয়াক্কা না করেই দলবেঁধে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আনন্দে মাতোয়ারা হয়। বেশ কিছুদিন থেকে ক্যাম্প থেকে গণহারে রোহিঙ্গাদের বেরিয়ে পড়ার ঘটনা উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। এমন অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের চেকপোষ্টগুলোতে রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠাচ্ছে।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ৪৭৩ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুরা মিলে ঈদ আনন্দ উদযাপন করতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়েছিল। খবর পেয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ তাদের আটক করে ওইদিন রাতে কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়। ক্যাম্প থেকে গণহারে রোহিঙ্গাদের বেরিয়ে পড়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে এপিবিএন’র (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান) বিরুদ্ধে। সেইসাথে ক্যাম্প থেকে কোনো রোহিঙ্গাকে বাইরে না যাওয়ার ওপর কড়া নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজুয়ান হায়াত বলেন, আশ্রয় ক্যাম্প থেকে কোনো রোহিঙ্গাকে বাইরে যাওয়ার সুযোগ না দিতে পুলিশকে কড়া নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যার ফলে ক্যাম্প ছেড়ে পাশের বাজারেও যেতে দেয়া হচ্ছে না রোহিঙ্গাদের।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ বলছে, কক্সবাজারে সংগঠিত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত রোহিঙ্গারা। তারা ক্যাম্প ছেড়ে বাইরে এসে ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা অপরাধ করে যাচ্ছে। পরবর্তীতে তদন্তে নেমে অপরাধীদের শনাক্তে পুলিশ হিমশিম খাচ্ছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, গত এপ্রিল মাসে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্প থেকে বের হয়ে আসা সহস্রাধিক রোহিঙ্গাকে আটকের পর ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।