গাইবান্ধায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা হাসপাতালে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও মিলছে না ডাক্তার। গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে গত এক সপ্তাহে দুই শতাধিক ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে নারী-পুরুষের চেয়ে শিশুদের সংখ্যা বেশি। ২০ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে কোনো শয্যা খালি নেই। বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছে। আর অনেকেই হাসপাতালের এমন অবস্থা দেখে ভর্তি হয়েও বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে জেলা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে সরেজমিন দেখা গেছে- মেঝে ও বারান্দায় ডায়রিয়া রোগী গাদাগাদি করে চিকিৎসকের অপেক্ষায় আছেন। দুপুর ১২টায়ও এ ওয়ার্ডে চিকিৎসকের কোনো খবর নেই।
জেলার ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের ১৩ মাসের শিশু মেহজাবিনকে গত সোমবার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। মেহজাবিননের মা মিনতি বেগম জানান, ‘বাচ্চাটা অস্তবিস্ত করছে ডাক্তারের কোমা খবর নাই। ছলটা যা খাচ্ছে তাই বমি করছে। আপারা খালি স্যালইন টাকছেন। বড়ো ডাক্তারক না দ্যাখালে ছলটার কি যে হয় মোর? ছলটা ভালো করার জন্য সেই চর থেকে আব্বাক মাক সাথে করে নিয়ে আনু।’
শহরের তিনগাছের তলের নাকী বেগম জানান, দুই দিন হলো এ ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে আছি। ডাক্তার ঠিকমতো আসে না। শুধু নার্সরা চিকিৎসা দিচ্ছে।
ডায়রিয়া ওয়ার্ডের কর্তব্যরত নার্স শ্রী বিউটি রানী জানান, আমরা সাধ্য মতো সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৩৮ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন রোগীই শিশু।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাহবুব হোসেন বলেন, রোগীর চাপ বেশি হলেও আমাদের স্বাস্থ্যসেবার কোনো ঘাটতি নেই। তবে জনবলের অভাবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন।



