চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সীগঞ্জে কামাল হোসেন (৬৩) নামের এক ঠিকাদারকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। কামাল হোসেন জেহালা ইউনিয়নের মুন্সীগঞ্জ ক্লিনিক পাড়ার পিতা মৃত জাহান মাস্টারের ছেলে।
জানা গেছে, গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ ক্লিনিক পাড়ায় প্রতিজ্ঞা নার্সিং হোমের পাশে গুরুতর জখম অবস্থায় কামাল হোসেনকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গুরুতর জখম কামাল হোসেনকে উদ্ধার করে প্রথমে প্রতিজ্ঞা নার্সিং হোমে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। রাত ১২টার দিকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা: আহসানুল হক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কামাল হোসেনের স্ত্রী সেলিনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামীকে আমি মারা যাওয়ার কিছু আগে হাসপাতালে নেয়ার পথে জিজ্ঞাসা করি, তোমাকে কে মেরেছে? সে কিছু বলে না। পরে আবার বলি মোতাহারের জামাই? আমার স্বামী কোনোরকম মাথা নাড়িয়ে জামাই শব্দটা খুব স্বল্প স্বরে বলেই চুপ হয়ে যায়। আর কথা বলেনি। পরে ডাক্তার বললেন, সে মারা গেছে।’ এই কথা বলতে বলতে সেলিনা খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়েন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা: আহসানুল হক বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে গুরুতর জখম অবস্থায় এক ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে পুলিশ। আমরা অবশ্য তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। তার বাম পায়ের হাঁটুর নিচে ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার ডান কান দিয়ে রক্তপাত হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।’
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুল আলিম জানান, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পৌঁছে গুরুতর জখম কামাল হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে আমরা অভিযোগ পেয়েছিÑ স্বাধীন নামের এক যুবকের সাথে জমি নিয়ে তার দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জেরেই হয়তো তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। এবং অভিযুক্ত স্বাধীনকে আটক করার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।