গাইবান্ধার ফুলছড়িতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করা ও তার ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

সোমবার দুপুরের দিকে জেলার ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপি আয়োজিত দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় পুলিশের লাঠিচার্জের ভিডিও চিত্র ধারণকালে তিনি এ হামলার শিকার হন। উপজেলা দলীয় কার্যালয়ের সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, সোমবার দুপুরে ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির আলোচনা সভা চলছিল। এ সময় ফুলছড়ি থানা পুলিশের কয়েকজন সদস্য সেখানে গিয়ে লাঠিপেটা শুরু করে। এ সময় ফুলছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য ও দৈনিক দেশসেবা পত্রিকার ফুলছড়ি উপজেলা প্রতিনিধি শাকিল আহমেদ ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করলে কর্তব্যরত এএসআই আতাউল গণি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিক শাকিলের ওপর লাঠিচার্জ করেন। পুলিশের আঘাতে সাংবাদিক শাকিল রক্তাক্ত হন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ফুলছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক, বিএনপির নেতা-কর্মীসহ এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

ওই পুলিশ সদস্যের অপসারণের দাবিতে তাৎক্ষণিক উপজেলা সদরে ফুলছড়ি প্রেসক্লাবের কর্মরত সাংবাদিকরা বিক্ষোভ মিছিল বের করলে এতে বিএনপির নেতা-কর্মীসহ এলাকাবাসী অংশ গ্রহণ করে। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ফুলছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল হক, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম যাদু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশিদ, কোষাধ্যক্ষ এ টি এম রাকিবুর রহমান সুমন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক জামিরুল ইসলাম সম্রাট, উদাখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, অবিলম্বে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য আতাউল গণির শাস্তি ও অপসারণের দাবি জানান। তা নাহলে আবারো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি অবগত হলাম। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।