বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেছেন, ‘সামনের দিনগুলো হবে সরকারের জন্য অনেক কঠিন। যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না। মানুষ জেগে ওঠছে। লড়াই হবে তিনবেলা মাংস খাওয়া মন্ত্রী-এমপি আর বছরে মাংস খেতে না পাওয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে। এ লড়াইয়ে জিতবে না-খাওয়া মানুষেরা। এই লড়াইয়ে দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে সাথে নিয়ে রাজপথে বড় ধরনের আন্দোলনে নামছে ২০ দলীয় জোট। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে শুরু হবে এ আন্দোলন।’

সোমবার বিকেলে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪১তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সৈয়দ হুদা এ সময় আরো বলেন, ‘শহীদ জিয়া ছিলেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের জনক ও জাতিসত্তার স্রষ্টা । বাংলাদেশের দুটি ক্রান্তিলগ্নে ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হয়েছিলেন ক্ষণজন্মা এই রাষ্ট্রনায়ক। ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ কালোরাতে যখন
শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা আত্মসমর্পণ কিংবা পালিয়ে গেলেন, তখন কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে নিজেকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। জিয়ার এই ঘোষণা ছিল মুক্তিযুদ্ধের তূর্য ধ্বনি। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যখন হত্যা করা হয়েছিল, তখনও সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ রক্ষায় আরেকবার আবির্ভূত হয়েছিলেন শহীদ জিয়া।’

দেশে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশ বাঁচাতে হলে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারকে হটানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। শহীদ জিয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সমস্ত জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী শক্তিকে রাজপথেই বাংলাদেশের হারানো গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।’

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিকলী-বাজিতপুর আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি মরহুম মজিবুর রহমান মঞ্জু’র বাড়ির সামনে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকাল ৬টায় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও
কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সেখানে কেুরআনখানি ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মজিবুর রহমান মঞ্জু স্মৃতি সংসদের সভাপতি ও মরহুম এমপির ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান মামুনের সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল ফজল মোমেন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি কায়সার মাহমুদ রিপন, যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক শরীফুল ইসলাম নাদভী, রফিকুল ইসলাম, কৌশিক আহমেদ সৌরভ, জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি বিলকিস আক্তার, সোহেল মাহমুদ প্রমুখ।

পরে দুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। কর্মসূচিতে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের সহস্রাধিক নেতাকর্মীরা যোগ দেন।