বরগুনায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্বামী রতন বণিককে (৪০) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার বরগুনা সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক নাহিদ হোসেন তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী সাইমুল ইসলাম রাব্বি।
অভিযুক্ত রতন বরগুনা পৌর শহরের বাসিন্দা বাবুল বণিকের ছেলে। তিনি কমলাপুরে কাস্টমস শুল্ক কর আদায়কারী প্রতিষ্ঠান আইসিডির ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার জগদীশ বণিকের
মেয়ে বিথী বণিকের সাথে বরগুনা শহরের ব্যবসায়ী বাবুল বণিকের ছেলে রতন বণিকের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার যৌতুক দেয়া হয়। বিয়ের দু’বছর ভালো ভাবে কাটলেও এরপর থেকে পুনরায় যৌতুকের জন্য মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।
ঢাকায় থাকার সময় বিথীকে মারধর ও মাথা দেয়ালের সাথে ধাক্কা মারায় মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। এ জন্য বিথীকে মানসিক চিকিৎসার পাশাপাশি একাধিকবার কাউন্সেলিং করানো হয়। সুস্থ হলে ঢাকার বাসা ছেড়ে কয়েক মাস আগে বিথীকে বরগুনায় শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে আসেন রতন। বরগুনায় বসতঘর ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন তারা। এ জন্য ১৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। কিন্তু
বিথী অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়ানো হয়।
এর জেরে গত ১১ মে বিথীকে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি মিলে বেদম মারধর করেন। একপর্যায়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যাচেষ্টা চালান তারা। এ সময় বিথীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। প্রতিবেশীরা ওই বাড়ির দরজা খুলতে বললে বিথীর স্বামী-শ্বশুর দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে সেখানে আরো লোকজন জড়ো হলে চাপের মুখে তারা দরজা খুলে দেন। তখন ঘরের মেঝেতে বিথীকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এলাকার বাসিন্দারা। মুমূর্ষু অবস্থায় বিথীকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকেরা দ্রুত তাকে বরিশালে স্থানান্তর করেন।
এ ঘটনায় গত ১৬ মে রাতে বিথীর মা করুনা বণিক বরগুনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় বিথীর স্বামী রতন বণিক, শ্বশুর বাবুল বণিক, শাশুড়ি গীতা রানী বণিককে আসামি করা হয়। ওই মামলায় সোমবার বিকালে সকল আসামিরা আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
এ প্রসঙ্গে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহম্মেদ জানান, আদালতের নির্দেশে আসামিদের বরগুনা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।



