গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীতে ছায়া সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেডের চেয়ারম্যান দুই শতাধিক গ্রাহকের প্রায় দুই কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় পুলিশ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন মোল্লাকে বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে মঙ্গলবার কয়েকজন গ্রাহক ৬৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আলমগীর হোসেনসহ সমিতির তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা করেন।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ডাঃ খায়রুল বাশারসহ সব কর্মকর্তা একই পরিবারের সদস্য। তারা অধিক মুনাফার প্রলোভনে গ্রাহকদের কাছ থেকে সঞ্চয় সংগ্রহ করতেন। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অবৈধভাবে সমিতির কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।

গ্রেফতারকৃত সাধারণ সম্পাদক আলমগীর সমিতির সভাপতি খায়রুল বাশারের শ্যালক। খায়রুল বাশার টঙ্গী দত্তপাড়া জহির মার্কেট এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে থেকে সমিতির কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। সম্প্রতি তিনি গ্রাহকদের টাকা আত্মসাত করে সস্ত্রীক গা ঢাকা দেন।

গ্রাহকরা বহু চেষ্টা করেও টাকা উদ্ধার করতে না পেরে অবশেষে থানায় মামলা করেন। মামলায় সমিতির সভাপতি খায়রুল বাশার, সহ-সভাপতি তার স্ত্রী মরিয়ম খাতুন ও সাধারণ সম্পাদক শ্যালক আলমগীর হোসেন মোল্লাকে আসামি করা হয়।

মামলার বাদি রিনা বেগম জানান, খায়রুল বাশারের শাশুড়ি সমিতির কোষাধ্যক্ষ জবেদা খাতুনের বিরুদ্ধে চেক ডিসঅনারের মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানার জন্য সমিতির সভাপতি খায়রুল বাশারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তার শাশুড়ি জবেদা খাতুন বলেন, আমার মেয়ে জামাতা খায়রুল বাশার গ্রাহকদের টাকা আনতে বরিশালের গ্রামের বাড়িতে গেছেন। সেখানে জমি বিক্রির চেষ্টা করছেন।

সমিতির সাথে তিনি ও তার ছেলে আলমগীরসহ পরিবারের কেউ জড়িত নন দাবি করে তিনি বলেন, সমিতির নিবন্ধনের জন্য খায়রুল বাশার আমাদের নাম ব্যবহার করেছে মাত্র।

এদিকে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাবেদ মাসুদ বলেন, গ্রেফতারকৃত আলমগীর একজন প্রতারক। তিনি অনেকের টাকা আত্মসাত করেছেন। সমিতির সভাপতি খায়রুল বাশারকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।