শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে পূর্বশত্রুতার জেরে চলাচলের রাস্তা ভেকু (এস্কেভেটর) দিয়ে কেটে দিয়েছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী পরিবার। ৯টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগীরা।
লিখিত অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের গাছগড়া গ্রামের আবেদ আলী সরকারি কবুলিয়ত রেজিস্ট্রি দলিল মূলে পাখিয়াতলা মৌজায় ২২৪ নম্বর দাগের ৬৭ শতাংশ জমির মালিক। তিনি সেখানে ছয় সন্তানসহ প্রায় ৪০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। ওই পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি স্থানীয় এক ব্যক্তি শত্রুতা করে ভেকু দিয়ে কেটে দেয়। রাস্তা খনন করার সময় ওই পরিবারের পুরুষ সদস্যরা কাজের জন্য অন্যত্র অবস্থান করছিলেন। এতে শুষ্ক মৌসুমে জমির আইল দিয়ে চলাচল করতে পারলেও বর্ষা মৌসুমে দুই ফুটের মতো পানি মাড়িয়ে চলতে হয়। ফলে আবেদ আলীর ছয় সন্তানসহ মোট ৯টি পরিবার স্ত্রী-সন্তানসহ ভোগান্তি পোহাচ্ছে। বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ৯ পরিবারের স্কুলপড়–য়া ছেলেমেয়েদের। তারা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছে না রাস্তা কাটার কারণে।
বিষয়টি নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার সালিসি বৈঠকে কোনো সুরাহা হয়নি।
অভিযোগকারী আবেদ আলী বলেন, লস্কর মিয়া ও তার সন্তানরা দীর্ঘ দিন ধরে আমার ও আমার পরিবারের লোকজনের সাথে অন্যায় করে আসছে। আমার বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা ভেকু দিয়ে খনন করে রেখেছে।
অভিযুক্ত লস্কর হাজীর ছেলে মোহাম্মদ এবাদুল বলেন, আমরা কারো রাস্তার মাটি কাটিনি। আমরা আমাদের আবাদি জমি থেকে মাটি কেটে নিয়েছি।
রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান একই পাড়ার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘ দিন থেকেই হাজী লস্কর ও আবেদ আলীর পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। আমরা সামাজিকভাবে দ্বন্দ্ব মেটানো চেষ্টা করেও বারবার ব্যর্থ হয়েছি।
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হেলেনা পারভিন বলেন, বিষয়টি সুরাহা করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।



