‘এত বড় হাট। অথচ কোনো ঘাট নেই। সরকারের অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঘাটগুলো এখন মাটির নিচে। তাই চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় হাট-বাজারে আসা হাজার হাজার মানুষকে। জানি না কবে এই ভোগান্তি শেষ হবে।’ রোববার দুপুরে কথাগুলো বলছিলেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা সদর বাজারের ফল ব্যবসায়ী হারুন অর রশীদ কালাই।
বাজারের অনেক ব্যবসায়ী জানান, ২৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চিতলমারী উপজেলার তিনটি নদী ও ৫৫টি খাল খননের কাজ চলছে। উপজেলা সদর বাজারের দুই পাশ দিয়ে বহমান মরা চিত্রা নদী ও হক ক্যানেলের খনন কাজ প্রায় শেষের দিকে। বাজারের সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পেছনে চিত্রা পাড়ে মাটির নিচে চাপা পড়েছে এলজিইডি নির্মিত প্রায় ২৭ লাখ টাকার একটি ঘাট। একইভাবে চিতলমারী মাছ বাজারের পেছনে খননাধীন হক ক্যানেলের পাড়ের ২৭ লাখ টাকার ঘাটটিও মাটির নিচে চাপা পড়েছে। তার ওপর নির্মাণ করা হয়েছে কাঠের সেতু। বর্তমানে উপজেলা সদর বাজারের এত বড় হাটে কোনো পাবলিক ঘাট নেই। তাই বাজারে আসা হাজার হাজার মানুষের পণ্য উঠানামা ও বাজারে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সদর বাজারের ব্যবসায়ী শেখ নজরুল ইসলাম, প্রাণকৃষ্ণ দত্ত ভগো, নজরুল তালুকদার ও জুয়েল শেখ বলেন, ‘নদী ও খাল খননের জন্য দুই পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। খাল খনন শেষে আবারো এগুলো দখল হয়ে যাবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবী, দখলের আগেই যেন মানুষের জন্য একটি ঘাটের জায়গা নির্ধারণ করে ঘাট নির্মাণ করা হয়।’
সদর বাজার ব্যবসায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শহীদুল ইসলাম লিটন বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বাজারে ব্যবহারের মতো কোনো ঘাট নেই। আমি বাজারবাসীর পক্ষ থেকে পুরনো ঘাট উদ্ধারসহ নতুন ঘাট নির্মাণের দাবী করছি।
উপজেলা প্রকৌশলী সাদ্দাম হোসেন বলেন, এগুলো এডিপির কাজ। আমরা তদারকি করি। আমি এখানে এসেছি নতুন। ঘাটগুলো কী অবস্থায় আছে, তা দেখে খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইয়েদা ফয়জুন্নেছা জানান, মাটির নিচে ঘাটগুলোর খোঁজ নেয়া হবে। প্রয়োজনে আগামী অর্থ বছরে নতুন ঘাট নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হবে।